সুদিনের অপেক্ষায় তামিম

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ব্যাট হাতে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার চক্র থেকে বের হতে একটা বড় ইনিংস খুব করে দরকার তামিমের। সেটা আজকের ম্যাচে পেলেই সবচেয়ে ভালো – এএফপি
যেন দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে পড়ে গেছেন তামিম ইকবাল। এক বছর ধরে ওয়ানডেতে তার ব্যাটে কোনো সেঞ্চুরি নেই। বিশ্বকাপের আট ম্যাচে অনেক সতর্কতার সঙ্গে ব্যাট চালিয়েও কেবল একটি হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। বড় আশা ছিল শ্রীলংকা সফর নিয়ে। কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের ভারও তার কাঁধে। সেখানেও প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ তিনি, দল হেরেছে সিরিজ। এই ব্যর্থতার সঙ্গে উপরি হিসেবে যোগ হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে বয়ে নিয়ে আসা বোল্ড হওয়ার বাতিক। তবে এই দুঃসময়ে নিজের ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছেন না তামিম। গতকাল কলম্বোতে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে তারকা এ ওপেনার জানিয়েছেন, এই আঁধার কেটে অবশ্যই সুদিন আসবে। আবার তার ব্যাটে রানের বন্যা দেখা যাবে।

তবে কখন কাটবে এ রানখরা? শ্রীলংকার বিপক্ষে আজ সিরিজের শেষ ম্যাচেই কি? নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা ছাড়া আপাতত আর কিছুই বলতে পারছেন না তিনি, ‘প্রতিদিনই আমার মনে হয় আজকে হয়ে যাবে, আজকে হয়ে যাবে। কিন্তু কোনোভাবেই হচ্ছে না; বরং আউট হওয়ার ধরন বুঝছি। গত ছয় ইনিংসে একই আউট, যদিও ধরনটা ভিন্ন। ক্রিকেটার হিসেবে নিজের ওপর বিশ্বাসটা রাখতেই হবে যে, আমি এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। তবে ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে, এই প্রথম এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আমি হচ্ছি না। এমন অভিজ্ঞতা অতীতেও হয়েছে। তাই নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিশ্বাসটা না রাখতে পারলে আমার কাজ আরও কঠিন হয়ে যাবে।’ এই সফরে শুধু তামিম একা নন, মুশফিক ছাড়া দলের অন্য সিনিয়ররাও পারফর্ম করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। মাহমুদুল্লাহ সব ক্ষেত্রেই চরম ব্যর্থ, তারকা পেসার মুস্তাফিজও প্রয়োজনের সময় উইকেট এনে দিতে পারছেন না। অথচ দলের এই সময়ে সিনিয়রদেরই আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। এ প্রসঙ্গটা টানতেই যেন কিছুটা দার্শনিক হয়ে গেলেন তামিম। নিজের ওপর সব দায় টেনে নিয়ে আশার কথাও শোনালেন, ‘দলের এমন সময়ে অবশ্যই সিনিয়রদের দায়িত্বটা বেশি থাকে। অভিজ্ঞতা দিয়ে এসব পরিস্থিতি তারা মোকাবেলা করবেন। অধিনায়ক হিসেবে না হলেও একজন সিনিয়র হিসেবে আমি ব্যর্থ। এটা আসলেই হতাশার। যখন দলের দরকার ছিল তখন আমরা পারিনি। তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। একটা বিষয় কী, মাঝে মধ্যে এমন সময় আসে যখন কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তবে আমি বিশ্বাস করি যে, এটা অনন্তকাল ধরে চলবে না। অবশ্যই এর শেষ হবে, সুদিন আসবে এবং আমি আবার রান করতে শুরু করব।’

দল যখন ভালো করছে না তখন ক্যাসিনোতে গিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। তাই বলে কোচকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে রাজি নন তামিম, ‘এটা তেমন কিছু না। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আসল কথা হলো, আমরা ভালো খেলতে পারছি না। তিনি তার সেরাটা ঠিকই দিয়েছেন। আমাদের জন্য সেরা ফ্যাসিলিটিজের ব্যবস্থা করেছেন, সব খেলোয়াড়কে প্রস্তুত হওয়ার সবটুকু সুযোগই তিনি দিয়েছেন। তাই তার একার ওপর দায় চাপানো ঠিক হবে না; বরং আমরা যে এগারো জন মাঠে ছিলাম তারা নিজেদের কাজটা ঠিকমতো করতে পারিনি বলেই হেরেছি।’

২-০-তে সিরিজ হেরে বসে আছে বাংলাদেশ। আজ জিততে পারলে ব্যবধানটা ২-১ হবে, না হলে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। সিরিজ হাতছাড়া হয়ে গেলেও শেষ ম্যাচ জিততে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তামিম। এতে নিজেদের নূ্যনতম সন্তুষ্টির পাশাপাশি দেশবাসীর প্রত্যাশা কিছুটা হলেও পূরণ হবে বলে মনে করছেন তিনি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments