সারাদেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ৪ লাখ ৫৮ হাজার

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৪০ লাখ ১৮ হাজার ৭৬৭টি। যার মধ্যে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৯টি। গতকাল হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীসহ সারাদেশে নিবন্ধিত ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নবায়ন না করা চালকের তথ্য জানতে চাওয়া মামলার শুনানি হয় গতকাল। সেখানেই এই তথ্য উপস্থাপন করে বিআরটিএ। এ সময় নিবন্ধিত ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নবায়ন না করা চালকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে এক মাসের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও বিআরটিএর সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালককে দেশের সকল জেলার তথ্য সংগ্রহ করে তা জানানোর নির্দেশ দিয়ে আগামী ২৩ জুলাই পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও পুলিশের পক্ষ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনের ওপর শুনানিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব।

শুনানিতে আদালত বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৪৮ বৎসর। এমন একটি দেশ হবে যেখানে দুর্নীতি থাকবে না-এই চেতনা নিয়েই দেশ স্বাধীন করা হলো। অথচ দেশ এখনো শৃঙ্খলার মধ্যে আসছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর আমরা যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করি তাহলে চলবে কী করে। আমরা শুধুই প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকব তা তো হয় না।’

সিঙ্গাপুরের প্রসঙ্গ টেনে হাইকোর্ট বলেন, ‘আমাদের কাছাকাছি সময়ে স্বাধীন হয়েছে সিঙ্গাপুর। সেই দেশটির দিকে তাকান। দেখুন সেখানে কী হয়েছে? আর আমাদের দেশে কী হচ্ছে? আমাদের এখানে গাড়ি ধাক্কায় এত মানুষ মারা যাবে কেন?’

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন আদালত। বলেন, সকলকেই আইন মেনে চলতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে কোনো দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না। এখন বসে থাকার সময় নেই। দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’

আ/এসআইসু

Facebook Comments Box