সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে ডিবি’র অভিযানে পর চাঁদা আদায়ের হাত

বদরুল আমীন, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস গত কয়েক বছর ধরে শহর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরিফ তার বাহিনী নিয়ে চাঁদাবাজী চালিয়ে যায়। ছাত্রলীগে কতিপয় সোনার ছেলেদের কারনে রাষ্ট্র তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। আর হাজার হাজার অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে সাধারন ভূমি ক্রেতা বিক্রেতাদের। ফলে এতে দীর্ঘদিন যাবত দন্ডিত হচ্ছে ভুমি ক্রেতা-বিক্রেতা ও নকল আবেদনকারীরা। ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদেকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন সহ অপমানের গ্লানী সহ্য করে কাজ বাগিয়ে আনার বহু ঘটনা রয়েছে। আরিফ একটি হত্যা মামলার আসামী হওয়ার পর কর্তৃত্বের হাত বদল হয়। ডিবি পুলিশের অভিযানের পর চাঁদা আদায়ের, আবারও হাত বদল হয়েছে। দলিল লেখক ফরিদ আহম্মেদ স্বপন অফিসের এক কেরানীকে দিয়ে সেরেস্থা নামে চাঁদা, সমিতির নামে চাঁদা, অফিস খরচের নামে চাঁদা আদায় করছে। দৈনিক মাটি ও মানুষ পত্রিকার সম্পাদক ফেসবুকে ট্যাটাস দিয়েছেন “ময়মনসিংহ সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে চাঁদাবাজী বন্ধ হয়নি-চাঁদাবাজ পরিবর্তন হয়েছে, কাজ আগের মতো চলছে, টাকা যাচ্ছে কোবরা বাঁধে ড্রাগনে”। সেই সাথে অফিসে উপস্থিত ভূমি ক্রেতা বিক্রেতারা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিষ্ট্রিার ও দলিল লিখক সমিতির কতিপয় ব্যক্তির সহায়তায় এখনো সন্ত্রাসীরা দেদারসে চালাচ্ছে ভূমি ক্রেতা ও নকল আবেদনকারীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি। সূত্রমতে, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা কামাই করছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অসাধু চক্র। বেআইনী চাঁদা আদায়ের ঘটনায় দলিল লেখকরা ইতিপূর্বে একাধিক বার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা রেজিস্ট্রার, সাব রেজিস্ট্রার এর কাছে মৌখিক অভিযোগ ও লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি।

সূত্র মতে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের চাঁদাবাজীকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের সদস্য রেজাউল করিম রাসেল হত্যার পর পুলিশ প্রশাসন নড়ে চড়ে বসে। ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার এর নির্দেশে দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ডিবি ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। পুলিশ গত রবিবার একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায়। অভিযানে দলিল লেখক কর্মচারিদের মুক্ত করে ৩ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত চাঁদাবাজরা হলো, মাকতুম হোসাইন, মহিউল ইসলাম ও রাকিবুল আলম। কিন্তু রহস্যজনক কারনে কোন অবস্থাতেই নাগরিক হয়রানি ও অর্থ ভর্তুকি চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না।

একজন অভিযোগকারী এ প্রতিবেদনকে জানান, দুর্নীতি পরায়ন জেলা রেজিস্ট্রার এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সদর সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সেই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে আতাত করে অফিস পরিচালনা কাজ ও দলিল প্রতি তাদের নির্ধারিত উৎকোচ বানিজ্য অব্যাহত রাখেন। উৎকোচ বাণিজ্যের দলিল দাতা গ্রহিতাদের আগে ছিল বাধ্যতামূলক। আর এখন সিস্টেমবাজী। এই সিস্টেমবাজীর মূল হোতা তথাকথিত সদর সাব রেজিষ্ট্রি সমিতির অবৈধ সেক্রেটারী ফরিদ আহম্মেদ স্বপন বলে জানা গেছে। বর্তমানে কেও দলিল করতে গেলে দাতা ও গ্রহিতাদের বলা হয় অফিস খরচ বাবদ, সেরেস্তা খরচ বাবদ ও সমিতি খরচ বাবদ টাকা লাগবে। কি অভিনব চাঁদাবাজী! সত্যি কথা কি সদর সাব রেজিষ্ট্রির চাঁদাবাজি আগের মত চলছে?

আস/এসআইসু

Facebook Comments