সাকিব-মুশফিকরাও ছুটে যান মিরচিতে

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বাঙালি সাংবাদিকদের ব্রিটিশ মুল্লুকে এসে ভাত না হলে চলে! আমিও ব্যতিক্রম নই। দু-তিন দিন ভাত ছাড়া থাকা যায়! এমন অবস্থা হলে শরীর ও মন ছেড়ে দেয়। সিদ্ধ আলু, কাঁচা সবজি আর খালি মুরগির মাংস খেয়ে কদিন থাকা যায়! খেলা, অনুশীলন ও বাংলাদেশ দলের পেছনে ছুটতে গিয়ে সারাদিন খাবারের খোঁজ থাকে না। বাংলাদেশে যখন মাঝরাত তখন আমাদের খাবারের কথা ভাবার অবসর মেলে।

কার্ডিফে বাঙালি ও ভারতীয় রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সিটি রোডে মিরচি ইন্দো-পাক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সেখানে সাদা ভাতের পাশাপাশি সবজি, মুরগি ও ভেড়ার মাংস পাওয়া যায় শুনলাম। শুক্রবার রাতে সেখানে খেতে গেলাম। সারাদিন দানাপানি সেভাবে পেটে পড়েনি। ট্যাক্সিওয়ালাকে বলতেই চিনে ফেলেছে। বোঝা গেল নামকরা রেস্টুরেন্ট। ছিমছাম শহর কার্ডিফ।

মিরচিতে যাওয়ার পথে একই প্যাটার্নের সব বাড়িঘর চোখে পড়েছে। এখানে বাড়িঘরে তেমন বৈচিত্র্য চোখে পড়েনি। সব বাড়িই প্রায় একই মাপ ও ডিজাইনের। লাল আর সাদা রঙের আধিপত্যই বেশি। সিটি সেন্টারের দিকে কিছু অন্যরকম ডিজাইনের শপিংমল, শপ ও বার রয়েছে। তবে সেটি ছোট শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ শহরে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতের অনেকে বসবাস করেন।

ভারতীয় রেস্টুরেন্টগুলোয় বেজায় ভিড়। এখানে সব শ্রেণির মানুষ আসেন। রেস্টুরেন্টে প্রবেশ পথেই দেখলাম পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকানদের সঙ্গে হোটেলকর্মীদের ছবি দেয়ালে বাঁধিয়ে রাখা হয়েছে। ইমরান তাহির, বাবর আজম, ডেল স্টেইন, ল্যান্স ক্লূজনার, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিমকেও দেখলাম। সাকিব আল হাসানের ছবিও রয়েছে সেখানে।

বেশ বড় এই রেস্টুরেন্টে বসে খাবারের অর্ডার দিতেই দেখা গেল মুশফিকুর রহিম প্রবেশ করেছেন। তিনি খাবারের অর্ডার দিয়ে বের হয়ে গেলেন। মিনিট ৩০ পরেই সাকিব এলেন খেতে। কার্ডিফে এলে তিনি এ হোটেলেই আসেন। হোটেলটিতে সব ধরনের খাবার রয়েছে। আমরা বাঙালি কয়েকজন ভাত, মুরগি কারি, ডাল ও সবজির অর্ডার করলাম। পানীয় হিসেবে নিয়েছিলাম আমের জুস।

ইংল্যান্ডের আম কেমন সেটি চেখে দেখার ইচ্ছা আরকি! অর্ডারের ১৫-২০ মিনিট পর চলে এলো খাবার। স্বাদ ও গন্ধ একেবারে আলাদা। ইংল্যান্ডের মানুষের মতো করে রান্না নয়। খাবার শেষে আবদার করলাম, চা পান করতে চাই। দোকানি পাকিস্তানি। তিনি বললেন, ব্রিটিশ চা না দেশের টা হবে? অবাক হলাম। একটু পরে চা নিয়ে এলেন। একেবারে ঢাকার টঙের দোকানের চা পেয়ে আপ্লুত হয়ে গেলাম। খেলোয়াড়রা কেন এখানে আসেন বোঝা গেল। বিদেশে এসে দেশি খাবার ও পানীয়র স্বাদ পেলে ভালোই লাগে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box