সাংবাদিকতার বিকাশই প্রমাণ করে দেশে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন: তথ্যমন্ত্রী

৭১কন্ঠ ডটকম
দেশের গণমাধ্যমের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডক্টর হাছান মাহমুদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার প্রসার ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন অনুমোদন দেন। আরও ১০টি টিভি চ্যানেল সম্প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। পত্রিকা ও অনলাইন সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে সাংবাদিকতার এই বিকাশই প্রমাণ করে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন। সার্কিট হাউস রোডস্থ তথ্য ভবনের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক প্রদান-২০২০ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শনিবার এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মোজাফ্‌ফর হোসেন পল্টু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাড. আব্দুল মতিন খসরু, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম প্রমুখ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধন হচ্ছে, শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উঠবে। এতে প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়বে। একটি অপশক্তি ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে মৌলবাদকে উসকে দিচ্ছে, গুজব ছড়াচ্ছে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
হাছান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সাংবাদিকদের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতি বছর সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দুস্থ সাংবাদিকদের সহায়তা দেওয়া হয়। এবার করোনার মধ্যে প্রায় চার হাজার সাংবাদিককে এ ট্রাস্টের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তা অব্যাহত আছে এবং করোনার ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত, করোনার প্রাদুর্ভাব না কমা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
ভুল ও অসত্য তথ্য পরিবেশন করার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ নানা শাস্তির কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য অনেক রাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থা অনেক উন্নত। অনেক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এতে কিছু সমস্যাও হচ্ছে। শত শত অনলাইন মিডিয়া সবার আগে সংবাদ দিতে চায়। ফলে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বেশকিছু অনলাইন মিডিয়া খুলে যাকে ইচ্ছা তাকে কার্ড দিয়ে সাংবাদিক বানিয়ে দিচ্ছে। এতে পেশাদার সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে অনলাইন মিডিয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো হীন বা ব্যক্তি স্বার্থে পরিচালিত অনলাইন রেজিস্ট্রেশেন পাবে না। যথাযথ তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই অনলাইন মিডিয়ার নিবন্ধন দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সব দিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে উলেস্নখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, সব ধরনের সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। অনেক ক্ষেত্রে ভারতকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছি। এখন রাস্তাঘাটে জুতা ছাড়া মানুষ দেখা যায় না। কুঁড়েঘর দেখা যায় না। এগুলো বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ফসল।
এ বছর বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক পেয়েছেন দৈনিক সমকালের সাব এডিটর জাহিদুর রহমান (গ্রামীণ সাংবাদিকতা), আমাদের সময়ের ইউসুফ আরেফিন (উন্নয়ন সাংবাদিকতা), দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের আরাফাত আরা (নারী সাংবাদিক), দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম (আলোকচিত্র)। দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও দৈনিক করতোয়াকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পদক দেওয়া হয়। আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান। তোয়াব খান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থাকার কারণে তার পক্ষ থেকে পরিবারের এক সদস্য সম্মাননা গ্রহণ করেন।

Facebook Comments Box