সমাবর্তন মঞ্চে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিলিপি ছিঁড়ে ছাত্রীর প্রতিবাদ, ভিডিও ভাইরাল

198

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিলিপি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। স্বর্ণপদক নিতে সমাবর্তনের মঞ্চে উঠেই প্রতিলিপি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।

মঙ্গলবার এমন ঘটনা ঘটান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী দেবস্মিতা চৌধুরী। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, দেবস্মিতার কথায় এই আইন দেশবাসীর কাছ থেকে নাগরিক হওয়ার প্রমাণ চাইছে। বিতর্কিত এই আইনের প্রতিলিপি ছিঁড়ে ফেলে সমাবর্তনের মঞ্চ থেকেই জোর গলায় তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ দেখাব না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’ এই সময় সমাবর্তনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ অনেকেই।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দেবস্মিতা চৌধুরী বলেন, ‘কোনো সংশয় না রাখাই ভালো। আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কোনো অসম্মান প্রদর্শন করছি না। এই প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিগ্রি পাওয়া আমার কাছে গর্বের। তবে আমি সিএএ-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই মঞ্চ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বন্ধুরা সমাবর্তন মঞ্চের বাইরের দরজায় ধর্নায় বসেছে।’

দেবস্মিতা আরও জানান, এই আইনের প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকেই সনদ নিতেও চাননি।

যাদবপুরের অন্য এক শিখার্থী অর্কপ্রভ দাস জানান, তার ২৫ জন সহপাঠী ডিগ্রি নিতে মঞ্চে যাননি। শিক্ষার্থীদের একাংশ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার সময় কালো পতাকাও দেখান।

এ ছাড়াও ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যদি কিছু বলে ফেলেন, এমন আশঙ্কায় পদুচেরি ইউনিভার্সিটির স্বর্ণপদক পাওয়া এক শিক্ষার্থীকে সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে স্নাতকোত্তরে প্রথম স্থান অর্জনের জন্য প্রাপ্ত স্বর্ণপদক প্রত্যাখ্যান করেন ওই শিক্ষার্থী। তার নাম রাবিহা আবদুরেহিম।

সমাবর্তনের মঞ্চ বরাবরই প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভারতের শিক্ষার্থীদের কাছে। বেশ কয়েকবছর আগে যাদবপুরের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবর্তন মঞ্চ থেকে সনদ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন গীতশ্রী।

এর আগে গতকাল শিক্ষার্থীদের ঘেরাও-বিক্ষোভের মুখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধনখড়। তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দ্বারা দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন। তারপর আচার্যের চেয়ার ফাঁকা রেখেই শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তন অনুষ্ঠান।

Facebook Comments