সবার ওপরে কাতান

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদে উৎসবে একটি শাড়ি না হলে বাঙালি নারীর চলেই না। এবারের ঈদেও তাই সালোয়ার-কামিজের পর শাড়ির দোকানে ভিড় লেগেই আছে। ক্রেতারা ছুটছে শাড়ির খোঁজে। ফ্যাশন সচেতনদের চোখ নতুন কোনো শাড়ির দিকে। এবারও সবার ওপরে কাতান। যদিও ডিজাইনে এসেছে নতুনত্ব। তারপর রয়েছে জর্জেটের ওপর লৌক্ষè স্টিচ। সঙ্গে দেশি শাড়ির একটি হলে মন্দ নয়। ধানমন্ডির এ আর প্লাজায় এসেছেন সারাহ কবির ও শহীদ কবির। জানালেন, এবার ঈদে মা, বোন, শাশুড়ি সবার জন্যই শাড়ি কিনতে হবে। আজ কিনবেন শুধু সারাহর জন্য। সারাহ মনে রেখ নামের শাড়ির দোকান থেকে আকাশি একটি কাতান পছন্দ করেছেন। দাম বলছে ১০ হাজার টাকা। এখান থেকেই কিনবেন শাড়িটি।

সারাহ বললেন, পছন্দ হয়ে গেলে দামের জন্য আর না কিনে পারা যায় না। এ শপিং মলের কালা্জংলীতে রয়েছে জর্জেট, সিøক, জামদানি সুতার বিভিন্ন ধরনের শাড়ি। এআর প্লাজার কনিস্কতে অবশ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে সুতি ছাপা শাড়ি। দাম ২ হাজার ৬০০ টাকা।

রাপা প্লাজার ময়ূরী, বিচিত্রা, জ্যোতি, নীলাচল বরাবরের মতোই সুদৃশ্য শাড়িতে সমৃদ্ধ। কিন্তু সোমবার দেখা গেল, এ শপিং মলে ভিড় নেই বললেই চলে। জ্যোতির বিক্রয়কর্মী জানান, এ মার্কেটে শাড়ির জন্য ক্রেতা আসবেই। ২০ রোজার পর দেখবেন দাঁড়ানোর জায়গা নেই। এসব দোকানে যেমন ২ হাজার টাকা দামের শাড়ি রয়েছে, তেমনি লাখ টাকা দামের শাড়িও রয়েছে। নীলাচল থেকে শাড়ি কিনেছেন তাসলিমা খান। তিনি কাতান কিনেছেন একটি সাত হাজার টাকায়। শাশুড়ির জন্য তসর তিন হাজার টাকায়।

চামেলীবাগের কনকর্ড টুইন টাওয়ারে কয়েক দিন ভিড় ছিল বেশ। দোকানিরা জানান, ভিড় তো বাড়বেই। মুসলিম পরিবারের সদস্যরা ঈদে একটা নতুন কাপড় পরবেই। ধনী-গরিব নির্বিশেষে এর রকমফের হয় না। তাই এ উৎসবে কেনাকাটা বেশি। এ শপিংমলের নীল কমলে রয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ির বাহারি সম্ভার। ফরিদপুর থেকে ঢাকায় কাজে এসেছেন শিক্ষক পলি রহমান। তিনি এখান থেকে একটি টাঙ্গাইলের শাড়ি কিনেছেন। হলুদ, কমলা ও সবুজের সমন্বয়ে এ শাড়ির দাম ১ হাজার ২০০ টাকা। বললেন, সুতি সাধারণ শাড়িই কিনলাম। স্কুলেও পরা যাবে, অনুষ্ঠানেও। আরও দুটি শাড়ি তিনি কিনবেন। দুটিই সুতির। তীব্র গরম এড়াবার জন্যই সুতির প্রতি এ পক্ষপাতিত্ব।

রাজধানীর মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীর সবচেয়ে প্রিয় হকার্স মার্কেট। এখানকার বিশেষত্ব বিভিন্ন রং, ডিজাইন ও মানের শাড়ি এখানে পাওয়া যায়। দর কষাকষির সুযোগ পাওয়া যায়। হর্কাস মার্কেটে ৮০০ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা দামের শাড়ি পাওয়া যায় বলে বিক্রেতাদের দাবি। এ মার্কেটের মায়ের দোয়ার স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান জানান, বিক্রি ভালো। ব্যবসার জন্য আমাদের চিন্তা করতে হয় না। এখান থেকেই শাড়ি কেনেন রাজধানীর অনেক সেলিব্রেটি। এমনকি পাশের দেশের নারীরাও এখান থেকেই কেনাকাটা করেন।

শোভা নামের দোকান থেকে কাতান কিনেছেন সাজেদা সুলতানা। ফিরোজা রঙের এ কাতানটির দাম ৪ হাজার টাকা। সাজেদা জানান, ঈদ না হলে এ শাড়ির দাম পড়ত ৩ হাজার টাকা।

হকার্স মার্কেটের বিপরীত দিকে গাউছিয়া মার্কেটে ধাক্কাধাক্কি, ভিড়। কিন্তু এখানকার অনুপম শাড়িঘরের সেলসম্যান জানান, এখন বিক্রি ভালো না। কিন্তু দোকানে ভিড় ছিল মন্দ না। তাই এ কথার জবাবে একজন ক্রেতা বলেন, মিডিয়াকে আসল কথা বলতে চায় না। অপরূপ নামের দোকানের বিক্রেতা বাবু বলেন, আমাদের দোকানে ভিড় বাড়ে ২০ রোজার পর। ঈদের কেনাকাটা তো হয়ই ঈদের পরের বিয়ের উৎসবগুলোর জন্য। এখানে বেশি বিক্রি হয় কাতান, গাদোয়ান, তসর ও মটকা।

এখানকার জ্যোতি শাড়ি থেকে একটি শাড়ি কিনেছেন ব্যা্কং কর্মকর্তা হালিমা খাতুন। জানান, জমিনে সুতির কাজ করা এ খাড্ডি কাতানের দাম পড়েছে ৮ হাজার টাকা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে এবার বেশি চলছে কাতান, লক্ষেèৗ চিকেনের কাজকরা শাড়ি, অ্যান্ডি কটন, তসর, সিøক ও সুতি-তাঁত। সুতি শাড়ির ক্ষেত্রে হালকা রং সবার ওপরে।

তারপরও রয়েছে মসলিন, খাড্ডি কাতান, গাদোয়াল, সম্বলপুরি, জামদানি। তবে এবার জামদানি কম বিক্রি হচ্ছে বলে দোকানিরা জানান। তাদের মতে, রাজধানীতে জামদানি মেলা বসায়, যারা কেনার তারা ওখানেই ঢুঁ মারছেন।

নিউমার্কেটে ভিড় কম হলেও নিউ শাড়ি বিতানের বিক্রয় কর্মকর্তা বিকাশ কর্মকার জানান, ১৫ রমজান থেকে বিক্রি বেড়েছে। তিনি আরও বললেন, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্যরা এখনও এ মার্কেট থেকেই শাড়ি কিনতে পছন্দ করেন।

শাড়ির বাজার ফুটপাতেও জমে গেছে। ফার্মগেটে সুতি শাড়ি নিয়ে বসেছেন স্বপন আলি। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা দামেরও রয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments