সন্তানের জন্য মায়ের অশ্রুসিক্ত আকুতি, তবুও…

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সন্তানের জন্য মায়ের সবিনয় আকুতি। কিন্তু মন গলেনি দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তারক্ষীর। শেষতক হাঁটু মুড়ে বসে পড়েছেন ওই নারী। কাতর আহ্বানের সঙ্গে আঁকড়ে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন ৬ বছরের ছেলেকে। কান্না চাপতে হাত দিয়ে মুখ ঢেকেও সামলাতে পারেননি নিজেকে।

সীমান্ত পারে নিজের সামনে দাঁড়ানো নিরাপত্তারক্ষীর কাছে ওই মায়ের একটাই আর্জি, তাকে যেন সীমান্ত পার হতে দেয়া হয়। এমনকি নিরাপত্তারক্ষীদের হাত-পাও ধরেছেন ৩২ বছরের ওই নারী। সন্তানসহ মায়ের এই কঠিন মুহূর্ত ক্যামেরা বন্দি করেছেন রয়টার্সের বিখ্যাত ফটো সাংবাদিক জোসে লুইস গঞ্জালেজ। তিনি ছবিটি তুলেছেন মেক্সিকো–আমেরিকা সীমান্ত থেকে। যা রীতিমত ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেইসঙ্গে ছড়িয়েছে তুমুল আলোড়ন। খবর গার্ডিয়ানের।

খবরে বলা হয়, ক্রন্দনরত ওই মায়ের নাম লেডি পেরেজ। ছয় বছরের ছেলে অ্যান্টনি ডিয়াসকে সঙ্গে নিয়ে গুয়াতেমালায় থাকা নিজের শেষ সম্বল ভিটেমাটি ছেড়েছেন ওই নারী। লক্ষ্য একটাই- সীমান্ত অতিক্রম করে আমেরিকায় যাওয়া। সন্তানকে যে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে হবে।
কিন্তু সীমান্তে পেরোতে গিয়েই মেক্সিকান ন্যাশনাল গার্ডের মুখোমুখি হন মা এবং ছেলে। আর তখনই ঘটে অমন হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা। যা অপলক দৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ করছে ছোট্ট ডিয়াস।

খবরে আরও বলা হয়, সন্তানকে নিয়ে দেড় হাজার মাইল পেরিয়ে এসেছেন গুয়াতেমালার ওই নারী। আর অল্প একটু পথ পাড়ি দিলেই ছেলের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার সমস্ত সুযোগের হাতছানি। তাইতো তীরে এসে তরী ডোবাতে চান না মা লেডি পেরেজ। ছেলের জন্য যেভাবেই হোক পেরোতে হবে সীমান্ত।

কিন্তু তার সে সংকল্পযাত্রায় বাধ সাধলেন মেক্সিকান গার্ড। কিছুতেই যেতে দিবে না তারা। শুনছে না কোন আর্জি। কিন্তু তিনি যে মা! গার্ডের সামনেই হাঁটু মুড়ে বসে পড়েন তিনি। ছেলেকে আঁকড়ে জড়িয়ে ধরে করজোড়ে করছেন আর্জি। তবুও আইন মেনেই কর্তব্যে অবিচল নিরাপত্তারক্ষী।

অশ্রুসজল মায়ের হাজারও করুণ আর্জিতেও মন গলেনি তার। নিজের দায়িত্ব পালনে অনড় তিনি। এক মায়ের অশ্রুভরা আর্জিতেও সাড়া দেননি তিনি। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মেক্সিকান ওই সেনা শুধু জানান, ‘তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন।’

এর ফলে সীমান্ত পেরোতে পারেননি ওই মা ও ছেলে। আর এতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একদিকে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন ওই মেক্সিকান সেনা। তেমনি আবার শিকার হয়েছেন তুমুল সমালোচনার। এমনকি ছবিটি ভাইরাল হয়ে পৌঁছে গেছে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের ডিজিটাল স্ক্রিনেও। এখন দেখার বিষয়, কি আছে গুয়েতেমালার ওই মা-ছেলের ভাগ্যে!

আস/এসআইসু

Facebook Comments