সতর্ক ব্যবহারে শতভাগ নিরাপদ এলপিজি সিলিন্ডার

আলোকিত সকাল ডেস্ক

প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কমে আসা ও দেশের সকল স্থানে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের যোগান না থাকায় সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না ক্রমে জনপ্রিয় হতে থাকে দেশজুড়ে। অবশ্য গত বেশ কয়েকবছর ধরে নতুন কোন ভবনে গ্যাস সংযোগ না দেয়ায় খোদ ঢাকা শহরেও বহুল ভাবে প্রচলন হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার। বিশেষ করে শীতকালে পাইপে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেকেই আজকাল এলপি সিলিন্ডার মজুদ রাখছেন জরুরী প্রয়োজনে।

তবে সম্প্রতি বেশকিছু গ্যাস দুর্ঘটনা ঘটতে থাকার প্রেক্ষিতে বেশ এলপি সিলিন্ডার ব্যবহারে জনমনে কিছুটা হলেও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সাধারণে যেই আতংক যে প্রচন্ড চাপে ফেটে যেতে পারে গ্যাস সিলিন্ডার, এটি একেবারেই অমূলক। বাংলাদেশের গড়পড়তা তাপমাত্রায় যেখানে এলপিজি সিলিন্ডারের চাপ ১০০-২০০ পিএসআই এর মাঝামাঝি থাকে, যেখানে সিএনজি গ্যাসের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে প্রচন্ড চাপে সিলিন্ডারের ভেতর গ্যাস প্রবেশ করানো হয় বলে এতে প্রায় ৩০০০-৩৬০০ পিএসআই এর মতো চাপ থাকে। ফলে অন্যান্য গ্যাস সিলিন্ডার আর এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের মাঝে চাপের তারতম্যে রয়েছে ব্যাপক ফারাক। তবে তারপরও যেহেতু এলপি সিলিন্ডারের ভেতর দাহ্য পদার্থ থাকে, তাই এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্ক থাকাই শ্রেয়। এলপি সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবার আগে দেখা উচিৎ সিলিন্ডারের মান। নিম্নমানের সিলিন্ডার কিংবা মরচে ধরা সিলিন্ডার সময়ই ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশী নজর দেয়া উচিৎ সিলিন্ডার তৈরিতে উপাদানের ক্ষেত্রে।

বিশেষ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো এলপিজি সিলিন্ডার জাপান এর মতো দেশ থেকে আমদানীকৃত মানসম্পন্ন স্টিলে তৈরি বলে এর মান নিয়ে সন্দেহের জায়গা থাকেনা। এছাড়াওসিলিন্ডারের বাইরে জিঙ্ক এর প্রলেপ থাকে বলে সিলিন্ডারে মরচে ধরেনা, তাই এলপিজি সিলিন্ডার লিক করে তরল গ্যাস বেরিয়ে আসবে সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

তবে ভালো উপাদানে সিলিন্ডার তৈরি বলেই অসাবধান ভাবেও ব্যবহার করা উচিৎ নয় এলপিজি সিলিন্ডার যেহেতু এর সিলিন্ডারের ভেতর দাহ্য পদার্থ থাকে। এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে দেশের অন্যতম এলপিজি গ্যাস বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান জি-গ্যাস এর হেড অফ অপারেশন্স নাওইদ রশিদ জানাচ্ছিলেন কিছু সাধারণ সাবধানতার কথা।

এলপিজি তরল অবস্থা থেকে সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাসে পরিণত হতে থাকে। তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসে পরিণত হবার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। অনেকে এজন্যে অজ্ঞতাবসত চুলা রেখে দেন আগুনের পাশে। কিংবা নিরাপদ জেনে অনেকেই সিলিন্ডারের নির্গমন পাইপ নিয়ে খুব একটা সতর্ক থাকেন না। এমনকি সিলিন্ডার রাখার ক্ষেত্রেও কোন সাবধানতা অবলম্বন করেন না ফলে এলপিজির প্রতি অতিরিক্ত ভরসার জায়গা থেকেই কিছুটা ঝুঁকি তৈরি করে ফেলেন।

এই বিষয়টি নিয়ে সরকারী ভাবেও চলছে কিছু প্রচারণা। যেমন চুলা থেকে সিলিন্ডার নিরাপদ দূরত্বে রাখা, নির্গমন পথ লিক করছে কিনা সেদিকে নজর রাখা, রান্নাঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা, স্বাভাবিক ভাবে সিলিন্ডার দাড় করিয়ে রাখা ও সিলিন্ডার থেকে চুলা কিছুটা উঁচুতে রাখা।

বাজারে প্রচলিত এলপি গ্যাস সিলিন্ডার এর তূলনায় এলপিজি বহুগুণে নিরাপদ। তবে ব্যবহারকারীরা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করলেইঘরোয়া কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারটি পুরোপুরি ভাবে নিরাপদ করা সম্ভব।

আস/এসআইসু

Facebook Comments