সংস্কারের তিন মাসের মাথায় নানা স্থানে ধস!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বান্দরবান জেলার লামা-সুয়ালক সড়ক মেরামতের তিন মাসের মাথায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের শিলেরঝিরি অংশের উভয় পাশে ধস দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে নির্মিত ড্রেনগুলোর বেশকিছু অংশ ধসে পড়েছে। সড়কের ডিসি রোড অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এতে এ সড়কে যানবাহন চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

গজালিয়া ইউপি মেম্বার মো. আবু বলেন, ‘সড়কের উভয় পাশে টু-ওয়াল ড্রেনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশের ড্রেন ফাটল ধরে ধসে পড়েছে। সড়কের শিলেরঝিরি নামক স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও উভয় পাশের এপ্রোচে প্রোটেকশন ওয়াল দেওয়া হয়নি। ব্রিকফিল্ড এলাকার আগে পরে সড়কের একাধিক অংশের ড্রেন ধসে পড়েছে।’

বান্দরবান জেলা সদরের সাথে আন্তঃসংযোগ স্থাপনকারী ৫৩ কিলোমিটারের এই সড়কটি দিয়ে লামা ও আলীকদম উপজেলার মানুষ চলাচল করে। এছাড়া লামা উপজেলার গজালিয়া, সরই ও আজিজনগরের পূর্ব চাম্বি অংশের লক্ষাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরে আসে। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা মংক্যচিং মার্মা ও ড্রাইভার সমীর উদ্দিন জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে যেকোনো মুহূর্তে লামা-সুয়ালক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সিএইচটি-জিওবি (রক্ষণাবেক্ষণ) প্রকল্পের আওতায় লামা-সুয়ালক সড়কের চেইনেইজ ২০০০ হইতে ৫০০০ মিটার পর্যন্ত ৭৭ লক্ষ টাকা এবং চেইনেইজ ৫০০০ মিটার হইতে ৯০০০ মিটার পর্যন্ত ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২টি প্যাকেজের মাধ্যমে মেরামতের জন্য মেসার্স মিলন ট্রেডার্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করে। গত বছর ২১ এপ্রিল মেরামত কাজ শুরু করে এ বছর মার্চ মাসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেরামত কাজ সম্পাদন করে চূড়ান্ত বিল গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশলী জানান, মেরামতকৃত কার্পেটিং এ ফাটল ধরেছে এবং কিছু জায়গায় কার্পেটিং উঠে গেছে।

কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিল্টন ট্রেডার্সের মালিক মাওসেতুন তঞ্চগ্যা জানান, তার নামে এলজিইডির সঙ্গে চুক্তি হলেও সড়ক মেরামতের কাজটি করেছে মো. মুজিবুর রহমান। মুজিবুর রহমান কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাটি ফিলিং না হওয়ায় কার্পেটিং ধসে যাচ্ছে। ধসে পড়া অংশ ঠিক করে দিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, মেরামত কাজ শেষ হলেও আমরা সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণ করে যাব। কোনো অংশে সমস্যার সৃষ্টি হলে তাত্ক্ষণিক তা মেরামত করা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box