শ্রীনগরে ইউপি সদস্য’র বিরুদ্ধে ইভটিজার ছাড়িয়ে রাখার অভিযোগ

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

শ্রীনগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ইভটিজাদের ছাড়িয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হাঁসাড়া ইউনিয়নের আলমপুর হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ইভটিজিং করার সময় ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র ইসতিয়াক আহমেদ (১৪) প্রতিবাদ করলে বখাটে রাজন (২৪), ফয়সাল ( ২৩), রবিউল (২২), আমিনুল ইসলাম মিঠু (২৩) সহ ৮-১০ জন ওই ছাত্রের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে।

আক্রমনের স্বীকার ছাত্রকে বাচাতে এসে ডাঃ আলমাছ, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ সেলিম, শিক্ষক খান মোহাম্মদ মঞ্জুর বখাটেদের হামলায় আহত হন। পরে স্থানীয়রা ও স্কুলের ছাত্ররা এসে ইভটিজারদের আটক করেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে আসে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে হাঁসাড়া ৮নং ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও ৩নং ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর লিয়াজু করে পুলিশের কাছ থেকে বখাটেদের ছাড়িয়ে রাখেন বলে জানা গেছে। এবিষয়ে মঙ্গলবার সকালে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা হয়নি। এনিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গত সোমবার দুপুরে হাঁসাড়া গ্রামের কয়েকজন বখাটে আলমপুর হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এসে আড্ডা দিতে থাকে। ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে মূলকভাবে আজেবাজে মন্তব্য করে। এসময় দশম শ্রেনীর ছাত্র ইসতিয়াক ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করলে ভখাটেরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় লাভলু মোড়ল বলেন, বখাটেরা মাঝে মধ্যেই এখানে আড্ডা দেয়। ইভটিজিংয়ের স্বীকার ছাত্রীরা অনেক সময় লজ্জায় মুখ খোলতে চায়না। সোমবারের ঘটনায় শ্রীনগর থানার এসআই পরিমল ঘটনাস্থলে আসেন। আশাদুল ইসলাম ও তোফায়েল আহমেদ বলেন, এর আগেও একাধিকবার ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিনা প্রয়োজনে বিদ্যালয় সিমানায় কোন আড্ডা না দেয়ার জন্য এলাকায় মাইকিং ও পোষ্টারিং করাও হয়েছে। তার পরেও হাঁসাড়ার কিছু বখাটে এখানে আড্ডা দেয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আলমপুর হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক জনকে গন্ডগল না করার জন্য থামিয়েছি। পুলিশ আসার পরে আমার কাছে জানতে চাইলে আইনের দৃষ্টিতে যা করনীয় সে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলেছি।

ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আলাপ করে রাজন ও আমিনুল ইসলাম মিঠুকে নিজের জিম্মায় নিয়ে আসি। ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর বলেন, নজরুল মেম্বার সালিশ মিমাংসার কথা বলার কারণে আমরা বিকল্প কোন চিন্তা করিনি। শ্রীনগর থানার এসআই পরিমলের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই দিন ছাত্রদের সাথে বহিরাগতদের মারামারির সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এবিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। যদি অভিযোগ দায়ের করা হয় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা বলে এসেছি।

আ/এসআইসু

Facebook Comments Box