শ্রমিক সংকটে শাহজাদপুরের কৃষকেরা

মিঠুন বসাক, স্টাফ রিপোর্টার

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় ধান কাটা শ্রমিক সংকটে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পরেছে। শাহজাদপুর উপজেলায় আংশিক জমিতে শুরু হয়েছে ইরি-বোরো ধান কাটা।

কয়েকদিনের মধ্যে পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াই উৎসব। তবে গত বছরের মতো এবারও বোরো ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চড়াদামেও মিলছে না ধান কাটা শ্রমিক।

শ্রমিক না পাওয়া গেলে জমির ধান জমিতেই থেকে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। অপরদিকে শাহজাদপুরের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কষ্টার্জিত ফসল কেটে ঘরে তোলা নিয়েও শঙ্কা এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে সোনালি ফসল। ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। তবে ধান কাটা ও মাড়াই শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকরা শঙ্কা আর হতাশায় ভুগছেন। দু-চারজন শ্রমিক পাওয়া গেলেও দৈনিক ৫শ থেকে সাড়ে ৭শ টাকা করে মজুরি দিতে হচ্ছে। এতে কৃষকের খরচের টাকাই উঠবে না বলে জানিয়েছেন অনেকে।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোরো ধানের দাম তুলনামূলক খুবই কম। প্রকারভেদে প্রতি মণ ধান ৫শ টাকা থেকে সাড়ে ৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বড় মহারাজপুর গ্রামের কৃষক আলমাহমুদ বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে এবার বোরো ধানের আবাদ করেছি। যার ৪ বিঘা জমির ধান পুরোদমে পাক ধরেছে। কিন্তু ধান কাটার কৃষাণ পাচ্ছি না। আবহাওয়া ভালো থাকতে কেটে ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি হলে সব আশা মাটি হয়ে যাবে।

ডায়া গ্রামের কৃষক মুনসুর আলী জানান, ধান কাটা একজন শ্রমিককে তিনবেলা খাবারসহ দৈনিক ৬শ থেকে সাড়ে ৭শ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে একমণ ধান ৫শ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাহজাদপুর উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ প্রদান করে কৃষকদের সার্বিক সহায়তা করায় বোরো আবাদে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হয়নি। এ বছর বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশাবাদী।

আস/এসআইসু

Facebook Comments