শেরপুরে নতুন জামা কাপড় কেনার পর এখন ভিড় জমাচ্ছেন টুপি আতর আর জায়নামাজের দোকানে

বুলবুল আহম্মেদ, শেরপুর প্রতিনিধি

আর ক’দিন পরই মুসলমান ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। এদিন পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে ঈদগাহে যাবেন মুসলমানরা। এসব পোশাকে যদি আতরের সুবাস আর মাথায় নতুন টুপি না থাকে তাহলে কি আর চলে ?

নতুন পোশাক কেনার পর ক্রেতারা তাই ভিড় জমাচ্ছে শেরপুরের টুপি, আতর আর জায়নামাজের দোকানে। জেলার তেরাবাজার সড়কে জান্নাত আতর হাউজ, সাদিয়া ক্যাপ হাউজ, সাদ ক্যাপ হাউজ, তেরাবাজার ক্যাপ হাউজ,হামিদুর ক্যাপ হাউজ, আন-নূর হাউজ বেশ জমে উঠেছে। এসব দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধির সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে টুপি, তসবি, সুরমা ও জায়নামাজ।

সাদিয়া ক্যাপ হাউজের স্বত্বাধিকারী মো.শহিদুল রহমান সজল বলেন, মাথার বেড়ি, জায়নামাজ, টুপি ছাড়াও গুলবাহার, গুল রেডরোজ, লায়লা, বেলি, অ্যারাবিয়ান, জুঁই, বকুল, মর্নিং কুইন, চামেলি, জেসমিন, গোলাপ বাহার, শাহি দরবারসহ দেশি-বিদেশি আতর পাওয়া যাচ্ছে। কম দামের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি বিক্রি চলছে, জান্নাতুল ফেরদাউস, রজনীগন্ধা, বকুল আর বেলিফুলের আতর। প্রতি তোলার দাম পড়ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা।
এ ছাড়া বডি স্প্রের মতো ওয়ান ম্যান শো, আল হারমাইন মদিনা, মেইজ, সানডে, এক্সের চাহিদাও রয়েছে অনেক। বডি স্প্রের মতো এসব সুগন্ধি কিনছেন মূলত তরুণেরা। মধ্যেম দামের মধ্যেও রয়েছে নানা ধরনের আতর।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম সাদিয়া ক্যাপ হাউজ থেকে কাঁচা বেলির এক তোলা আতর কিনলেন। বললেন, ছেলে, নাতি আর আমি সবাই মিলে আতর মেখেই ঈদগাহে যাব।

আন-নূর ক্যাপ হাউজে দেখা মিলল দুই ভাইয়ের। পছন্দের পাকিস্তানি ভোগাস টুপি তাঁরা বেছে নিচ্ছিলেন। এক ভাই চাকরিজীবী মো.শামীম বলেন, ঈদের কেনাকাটা করা সবই শেষ। তাই আতর, টুপি ও জায়নামাজ কিনতে তেরাবাজার মার্কেটে এসেছি।

পাশের দোকানে সাদ ক্যাপ হাউজ থেকে তসবি আর জায়নামাজ কিনলেন এক দম্পতি। টুপির দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১০ টাকা থেকে শুরু করে টুপি এবং ভাল পুঁতির কাজ করা টুপি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। গোল টুপির দাম ৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বাচ্চাদের চুমকি বসানো টুপি মিলবে ১০০-২৫০ টাকায়। আর সাধারণ টুপির দাম পড়বে ৫০ থেকে ১২০ টাকা।

ঈদ বাজার করতে আসা কুসুমহাটির জামাল শেখ বলেন, ঈদের দিন সকালে নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবির সঙ্গে দরকার পড়বে আতর, টুপি, তসবি ও জায়নামাজ। তাই ঈদের কেনাকাটায় শেষ মুহূর্তে এসব দোকানে ভিড় করছেন অনেকেই।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box