শুরু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

আলোকিত সকাল ডেস্ক

থার্ড টার্মিনাল এখন আর স্বপ্ন নয়। দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়ন শেষ। এখন অপেক্ষা আর্থিক ওই দরপত্র খোলার। আগামীকাল শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে ব্রিফিং দেয়া হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই মেগাপ্রকল্পের। চৌদ্দ হাজার কোটি টাকার বিমানবন্দরে এই থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের পর বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত কতটা বদলে যাবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করা হবে প্রধানমন্ত্রীকে। জাপানের দাতা সংস্থা জাইকা ইতোমধ্যে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে, যা উপস্থাপন করা হবে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে।

সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান জানান, অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে স্বপ্নের এই থার্ড টার্মিনাল। দরপত্র চূড়ান্ত হওয়ার দিনেও অশুভ শক্তি মামলা ঠুকে দিয়ে প্রকল্প নস্যাত করতে চেয়েছে। কিন্তু সরকারের আইনী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সব বাধা কাটিয়ে আলোর মুখ দেখেছে স্বপ্নের থার্ড টার্মিনাল। এখন থার্ড টার্মিনাল শুধু আর স্বপ্ন কিংবা কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ নয়; স্বপ্ন এখন রূপ নিয়েছে বাস্তবে। দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়নে সবচেয়ে বড় বাধা শেষ করে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে জাপানে। জাপানের শীর্ষ দুটো কোম্পানি সিমুজি ও মিতসুবিসি; এই কারিগরি মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছে। কোম্পানি দুটোর অফার মূল্যায়নের আগে জাইকার কাছ থেকে আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত জানতে চাওয়া হয়েছে। পরামর্শক কোম্পানি সে জবাবও প্রস্তুত করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া গেলেই খোলা হবে আর্থিক দরপত্র। এরপর এ দুটোর মধ্যে যার আর্থিক প্রস্তাব কম হবে সেটাই চূড়ান্তভাবে টিকে যাবে। এ কাজটুকু করতে সময় লাগবে তিন মাস। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের যে কোন সময় থার্ড টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্বোধন করা হবে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী সাড়ে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মেগাপ্রকল্প।

এদিকে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনের আগেই প্রস্তুত করা হচ্ছে প্রস্তাবিত স্থান। নিকুঞ্জ থেকে উত্তরে শাহজালালের গোলচত্বর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ দিগন্ত বরাবর নির্মাণযোগ্য করা হচ্ছে। সবার আগে বেসরকারী হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গার সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়। ২ লাখ ২৬ হাজার বর্গফুটের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য যতটুকু জমি প্রয়োজন সেটা নির্মাণোপযোগী করে তোলার জন্য সেই কাজ অনেকটাই শেষের দিকে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পের জন্য বিশ্বের নামীদামী ২২ বিমানবন্দর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র কেনে। তারা প্রত্যেকেই অংশ নেয়। তবে দরপত্র খোলার দিন সামনে রেখে এই প্রকল্প নস্যাত করতে সিভিল এভিয়েশনের ভেতরে তথাকথিত ঠিকাদার নামধারী একটি চিহ্নিত মহল উঠেপড়ে লাগে। চক্রটি আদালতে গিয়ে কাজ বন্ধের হুমকি দিয়ে নানাভাবে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান জনকণ্ঠকে বলেন, থার্ড টার্মিনাল নিয়ে অর্থদাতা প্রতিষ্ঠান জাইকার সঙ্গে বেবিচক ও বিমান মন্ত্রণালয়ের একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ’১৬ সালের ২১ এপ্রিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী দাতাদেশ জাপানের নিজস্ব প্রকিউরমেন্ট রুলস ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট এইড (ওডিআই) অনুযায়ীই এ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান, যাচাই-বাছাই, কার্যাদেশ দেয়া ও অন্যান্য কিছু বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট মাহবুব আলী এ বিষয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, এটা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প। এর সঙ্গে দেশের সার্বিক উন্নতির বিষয় জড়িত। যে কোন মূল্যে যত দ্রততম সময়ে সম্ভব থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু ও শেষ করতে হবে।

বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনালের সুফল সম্পর্কে এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান বলেন-এটা চালু হবার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যাবে গোটা দেশের এভিয়েশন খাত। আন্তর্জাতিক অঙ্গেনে এমনিতেই আলোচনার শীর্ষে থাকা বাংলাদেশ তখন নিজেকে প্রস্তুত করবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম হাব হিসেবে। এই টার্মিনালকে ঘিরে বিকশিত হবে দেশের এভিয়েশন খাত। নবদিগন্তের সূচনা হবে আকাশপথে। যা গোটা দেশের অর্থনীতিকে বিকশিত ও মজবুত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, ’১৭ সালের ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। এর আগে ’১৫ সালে বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টার প্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। ’১৭ সালের ১১ জুন এ প্রকল্পের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে পরামর্শক নিয়োগ দেয় বেবিচক। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল ’১৬ সালের জুলাই থেকে ’২২ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু নানা বাধায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা যায়নি। এর মধ্যে অন্যতম বাধা ছিল টার্মিনালের দক্ষিণ প্রান্তে বিশাল বাগান পরিষ্কার করা, বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ ও হ্যাঙ্গার স্থানান্তর প্রকল্পের কাজে চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী মহলের মামলা-মোকদ্দমা। নইলে এতদিনে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যেত। প্রকৌশল বিভাগের মতে, থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হতে সময় লাগবে অন্তত চার বছর। এ বছরের একেবারে শেষদিকে টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

সে হিসেবে ’২২ সালের দিকে নতুন টার্মিনালটি ব্যবহারের জন্য চালু হতে পারে। প্রায় ৭০ হাজার পৃষ্ঠার দরপত্রের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মাসকয়েক সময় লাগবে। সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া যেতে পারে আগস্টের শেষে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কাজ শুরুর টার্গেট নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বেবিচক প্রকৌশল বিভাগ। ইতোমধ্যে বেবিচকের মেধাবী ও দক্ষ প্রকৌশলীদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ পুল। স্বপ্নের এই টার্মিনাল নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়ার পর থেকেই ক্ষণগণনা শুরু হবে। আধুনিক এই টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সরকারের বৃহৎ এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। মোট টাকার মধ্যে এই প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন হচ্ছে দুই হাজার ৩৯৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। বাকি অর্থের পুরোটাই দেবে জাইকা। সেভাবেই এগোচ্ছে সবকিছু।

কী থাকছে এখানে

চার বছর ধরেই আলোচনায় এই টার্মিনাল। দীর্ঘ তিন বছর ধরে তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক বিমানবন্দরের এই থার্ড টার্মিনাল। যা শাহজালাল বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত। এর ড্রয়িং-ডিজাইনে দেখা যায়- তিন তলাবিশিষ্ট স্টীল ও কংক্রিটের কম্পোজিট স্ট্রাকচার। এ ভবনে থাকবে সব ওয়ানওয়ের এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট। ঢাকার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে যারা আসবেন তারা নিকুুঞ্জের লা মেরিডিয়ান পয়েন্ট থেকে উঠে যাবেন টার্মিনাল কানেক্টিং সড়কে। ওখানে থাকবে টার্মিনালের এন্ট্রি গেট। তিন তলা থেকে বহির্গামী যাত্রীরা এস্কেলেটরে নেমে যাবেন দোতলায়, যেখানে থাকবে বহির্গমন ও এ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ও চেক-ইন কাউন্টার। আবার রাজধানীর উত্তর প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীরা বর্তমান বলাকার দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে পশ্চিম দিকে ঢুকে উড়াল সেতু দিয়ে চলে যাবেন টার্মিনাল ভবনে। একইভাবে টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় একই আন্ডারপাস ও ওভারপাস দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে নির্বিঘ্নে চলে যাওয়া যাবে। প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী জানিয়েছেন, থার্ড টার্মিনালে যাতায়াতে যানজটের বিন্দুুমাত্র কারণও থাকবে না। ট্রাফিক সিস্টেমে এমন সুযোগ রাখা হয়েছে যা কেবল চোখে দেখার মতো, বলার মতো নয়। অত্যাধুনিক দৃষ্টিনন্দন এই টার্মিনাল হবে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক মডেলের। এতে থাকবে বারোটি বোর্ডিং ব্রিজ, ৫৬ চেক-ইন সেন্টার, ষোলোটি এ্যারাইভাল লাগেজ বেল্ট, আধুনিক ভিআইপি ভবন, ট্যাক্সিওয়ে, মেট্রোরেল কানেকশন। যাত্রী ও দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক এস্কেলেটর, সাবস্টেশন ও লিফট, রাডার, কন্ট্রোল টাওয়ার, অপারেশন ভবনসহ বহুতল গাড়ি পার্কিংও থাকবে। তিনতলা টার্মিনাল ভবনটির স্থাপত্যে রাখা হবে নান্দনিকতার ছোঁয়া। থার্ড টার্মিনাল ভবনের আয়তন হবে দুই লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটার। আর নতুন কার্গো ভিলেজের আয়তন হবে ৪১ হাজার ২০০ বর্গমিটার।

ভিভিআইপি কমপ্লেক্স হবে পাঁচ হাজার ৯শ’ বর্গমিটার আয়তনের। এ প্রকল্পের জন্য ’১৭ সালের ১১ জুন জাপানের নিপ্পন কায়ো, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্ট ও বাংলাদেশের ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেডকে যৌথভাবে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়। তারা তৃতীয় টার্মিনালের নক্সা পর্যালোচনা, মূল নির্মাণ কাজের দরপত্রের খসড়া এবং নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তদারকিও করবে। তাদের সর্বাত্মক সহায়তা দেবেন সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব প্রকৌশলীরা। এ জন্য পিডি নিয়োগ করা হয়েছে মেধাবী প্রকৌশলী মাকসুদুল ইসলামকে। তার সঙ্গে থাকছেন আরও এক ডজন্ তরুণ প্রকৌশলী। প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী বলেন, বিশাল এই কর্মযজ্ঞে দেশী- বিদেশী প্রকৌশলী, কারিগর, বিশেষজ্ঞ, তত্ত্বাবধায়ক ও সাধারণ শ্রমিক মিলিয়ে কমপক্ষে ৫ হাজার জনবল দিনরাত নিয়োজিত থাকবে। চার বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষের টার্গেট নিয়ে তাদের কাজ করতে হবে। এর নির্মাণ কাজ শেষ হলে সত্যিই এক অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন হিসেবে খ্যাতি ছড়াবে স্বপ্নের থার্ড টার্মিনাল।

জানা গেছে, নতুন এ টার্মিনাল ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বিমানবন্দরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ জন্য স্থানান্তর ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে কার্গো ভিলেজ, ভিভিআইপি কমপ্লেক্স, হ্যাঙ্গার ও পদ্মা অয়েল ডিপো। হ্যাঙ্গার স্থানান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে জোরেশোরেই। শাহজালালের সর্ব উত্তর প্রান্তে শুরু হয়েছে মাটি খননের কর্ময্জ্ঞ। এর মূল নক্সায় রয়েছে ২৬ বোর্ডিং ব্রিজ, যদিও প্রথম ধাপে নির্মাণ করা হবে ১২। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাকি চৌদ্দটি বোর্ডিং ব্রিজ ধাপে ধাপে নির্মাণ করা হবে। আগত যাত্রীদের চাপ সামলাতে ও যানজট এড়াতে বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়কেও আসবে পরিবর্তন। বিমানবন্দরের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত করতে সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আশিষ রায় চৌধুরী বলেছেন, সিভিল এভিয়েশনের এ যাবত কালের বৃহৎ এই নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে গোটা এভিয়েশন মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলেই পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিভিল এভিয়েশন শুরু থেকেই তোড়জোড় চালিয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল নাইম হাসান, মেম্বার (অপস) এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রধান প্রকৌশলী গত কয়েক বছর ধরেই একে একে প্রতিটি বাধা ঠেলে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এ জন্যই এখন জোর গলায় বলতে পারি, থার্ড টামিনাল আর স্বপ্ন নয়, সত্যিই বাস্তবতার মূর্ত প্রতীক।

এ সম্পর্কে বর্তমান চেয়ারম্যান নাইম হাসান বলেন, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ কাক্সিক্ষত সময়ে শেষ হলেও আমাদেরকে প্রস্তুতি নিতে হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য। কেননা, যেভাবে দেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণ হচ্ছে তাতে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে সামাল দেয়া যাবে পনেরো থেকে বিশ বছর। তখন থার্ড টার্মিনালেও আজকের মতো যাত্রী সমাগমের প্রাচুর্যে প্রচন্ড ভিড় দেখা দেবে। সে বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এখনই নজর দিতে হবে বঙ্গবন্ধু এয়ারপোর্টের। এ ধরনের একটি বিশালাকৃতির প্রকল্প শেষ করতে কমপক্ষে সময় লাগবে পনেরো বছর।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments