শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এবার দলে অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকতে দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন দল এ দলটি। এখন আর কেউ ইচ্ছে করলেই হুট করে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করতে পারবে না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে যেমন সত্যিকারের আওয়ামী প্রেমীদের স্থান দেয়া হবে, তেমনি অনুপ্রবেশকারীরা দলে তাদের সদস্য পদ আর নবায়ন করতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে দলের ভেতর-বাহিরে এমন দাবি উঠেছে, জনগণের কাছে যারা অগ্রহণযোগ্য, অসৎ, তাদের আওয়ামী লীগে কোনো প্রয়োজন নেই। তাই দলকে সম্পূর্ণ ক্লিন রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে দলের ইমেজ নষ্টকারীদের বের করে সত্যিকারের আওয়ামী প্রেমী ও ইমেজধারীদের স্থান দিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।

অবশেষে আজ রবিবার (২১) জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে দলের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান। এ অভিযানকালে নতুন ভোটারদের দলের সদস্য করার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হলেও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়ার বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। যারা এর আগেই দলে ঢুকে পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়েছেন, তাদের সদস্যপদ নতুন করে নবায়ন না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। দলের জেলা-উপজেলা কমিটিকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু এবং বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের বের করে ২১ শতকের সময়পযোগী করে দলকে গড়ে তোলা।

এদিকে, দলের ভেতর বহিরাগত অতিথি পাখিদের কোন সুযোগ সুবিধা দিতে ইচ্ছুক নয় দলটি হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতারা। দলের জন্য নিবেদিতরাই এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করছে অনেকে। ভোল পাল্টে বঙ্গবন্ধুর প্রেমের মিথ্যে দোহাই দিয়ে যারা দলে ভিড়েছে, অসময়ে তাদের হারিকেন জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে দাবি করছে দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী। সুবিধাবাদীরা দলে প্রবেশ করছে শুধুমাত্র ফয়দা লুটে নেয়ার জন্য। এরা আওয়মী লীগের আদর্শে বিশ্বাস করে না। এরা অতিথি পাখি। অবিলম্বে এদের দল থেকে বের করে দিতে হবে।

দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে আওয়মী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ বিডি২৪লাইভকে বলেন, বেশি বছর ক্ষমতায় থাকলে দলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা যেমন বেড়ে যায়, তেমন অবাঞ্চিত যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্যরাও যে কোন উপায়ে ঢুকে পড়ে। এদেরকে কোন অবস্থায় দলে রাখা হবে না। এরা দলের জন্য অভিশাপ এবং বিতর্কিত নেতারা দলের বোঝা। অতএব এদেরকে দল থেকে বের করে দেয়া হবে। কোন অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগে এদের রাখা হবে না। যদিও এরা কিছু ঢুকে পড়েছে, তবে এদের সদস্য নবায়ন করা হবে না। এদেরকে দল থেকে বের করে দেয়া হবে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের আলোচনা একটি সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের সময় জোয়ারে অনেকেই আওয়ামী লীগ ও নৌকার পক্ষে মিছিল করেছেন। সবাইকে দল ধারণ করতে পারবে কি-না- সেটা ভাবতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কেউ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। দুষ্ট গরুর থেকে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।

আস/এসআইসু

Facebook Comments