শিষ্টাচার তো বিএনপির কাছ থেকে শিখতে হবে না: তথ্যমন্ত্রী

?????????????????????????????????????????????????????????

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যকে ‘শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, শিষ্টাচার তো বিএনপির কাছ থেকে আমাদের শিখতে হবে না। মির্জা ফথরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে বলব, তার নেত্রীকে শিষ্টাচার শেখানোর জন্য। তিনি এমন একটি দলের মহাসচিব যে দলের চেয়ারপারসন…কোকো মারা যাওয়ার পর দেশের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুয়ারের সামনে গিয়ে ১৫-২০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া দরজা খোলেননি। কোনো শত্রুও যদি সহমর্মিতা জানানোর জন্য কারো বাড়িতে হাজির হয় আমাদের সামাজিক আচার হচ্ছে তার জন্য দরজাটা খুলে দেয়া।

সোমবার (১০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন। টেলিফোনে যে ভাষায় বেগম খালেদা জিয়া কথা বলেছেন, সেটি সমস্ত শিষ্টাচার বহির্ভূত ছিল। তাই আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার নেত্রীকে শিষ্টাচার শেখানোর জন্য বলব।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতকাল যেটি বলেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব হচ্ছে কোনো শাস্তিপ্রাপ্ত আসামির শাস্তি কার্যকর করা। এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারেক রহমান দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। তারেক রহমানের শাস্তি কার্যকর করা হচ্ছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সেই কথাই বলেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক দৈন্যদশা এই পর্যায়ে গেছে যে, হত্যাকাণ্ডের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, দুর্নীতির দায়ে ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। এটি তাদের জন্য প্রচণ্ড লজ্জাকর, রাজনৈতিক দৈন্যতার বহিঃপ্রকাশ।

ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ আরও বলেন, শিষ্টাচারের কথা বলে মির্জা ফখরুল মহাসচিবের পদটি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তিনি দায়িত্ববোধ থেকেই বলেছেন। নিশ্চয়ই তারেক রহমানের এই শাস্তি একদিন কার্যকর হবে।

ঐক্যফ্রন্ট ঐক্য সুদৃঢ় করতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বৈঠকের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের অবস্থা দেখে আমার হাসি পায়, আবার করুণাও হয়। তারা বারবার বলে আসছিলেন, বৃহত্তর ঐক্য, জাতীয় ঐক্য, আর ফ্রন্টের নাম ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টেই ঐক্য নাই, ঐক্য ধরে রাখার জন্য তারা আজ মিটিং ডেকেছেন।

ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন নেতা ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যারা নিজের ঐক্য ধরে রাখতে পারেন না, নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

তিনি বলেন, ঐক্য ধরে রাখার জন্য বৈঠক করতে হচ্ছে। তাদের যে আন্দোলনের ঘোষণা, সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ঘোষণা- এগুলো সব হাস্যকর। আজকের বৈঠকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যে ঐক্য নেই সেটি আরও স্পষ্ট করে দেখালেন।

বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা রোববার শপথ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই সংসদ অবৈধ’।

এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, এই কথার মাধ্যমে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজেকে অবৈধ বলেছেন। শপথ নিয়ে বলছেন, এই সংসদ অবৈধ। এর মানে এই সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনিও অবৈধ। এটিতে হাসব, নাকি কী বলব বুঝে উঠতে পারছি না। তাদের বক্তব্যে সব সময় দ্বৈততা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box