শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

 

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদ যাত্রায় লঞ্চ, বাসে স্বস্তি থাকলেও ট্রেনে ঘরমুখো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একের পর এক শিডিউল বিপর্যয়ে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা দেরিতে স্টেশনে আসছে-যাচ্ছে। এই শিডিউল বিপর্যয়কে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় ঘটছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। তবে রেলওয়ে কর্মকর্তারা এই অভিযোগ নাকোচ দিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রতিটি ট্রেন স্টেশনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও ১ থেকে ২ মিনিট করে বেশি দাঁড়াতে হচ্ছে। যাত্রী উঠা-নামার কারণে এটা করতে হচ্ছে। এটাকে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় বলা যায় না, ছাড়তে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে মাত্র।

ঈদ যাত্রার তৃতীয় দিনে রোববার (২ জুন) রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় বসে আছেন প্ল্যাটফর্মে। সকাল-রাত রেল স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। ট্রেনের বিলম্বের কারণে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে যাত্রীদের মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের ট্রেনগুলো কমপক্ষে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর প্ল্যাটফর্মে আসছে। আর উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলো ৭-৮ ঘণ্টা পর আসছে। এই শিডিউল বিপর্যয়ে শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের চোখমুখে ছিল চরম বিরক্তি। কোনোরকমে ট্রেনে উঠতে পারলেই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠছেন ভাগ্যবান যাত্রীরা।

রংপুর এক্সপ্রেস রংপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেন ছেড়েছে ১০টায়। ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনে সকাল ৭টায় পৌঁছার কথা থাকলেও বিলম্বের কারণে পৌঁছেছে সকাল ১০ টায়। একই অবস্থা ছিল লালমনি এক্সপ্রেসেও ক্ষেত্রে। কমলাপুরে রাত ১০ টায় সময় আসার কথা থাকলেও, এসেছে গভীর রাত ৩ টায়। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ভোর ৬টায় রাজশাহীর উদ্দেশে কমলাপুর ছাড়ার কথা। কিন্তুস সকাল ৯টার পরেও কমলাপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো ছিল। পরে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশন ছাড়ে ট্রেন।

চিলাহাটিগামী নীলসাগার এক্সপ্রেস ৪ ঘণ্টা দেরি করে দুপুর ১২টায় কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস দেড় ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে সকাল ৮টায়।

চট্টগ্রামগামী ট্রেনকে সব সময় বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। কারণ এটি হচ্ছে ব্যবসায়ীক অঞ্চল। ফলে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস সকাল সোয়া ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও তা ছেড়েছে ৭টা ৫০ মিনিটে। স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে চট্টগ্রামগামী সবগুলো ট্রেনের ড্রাইভার তৎপর থাকেন। এসব ট্রেনে যেন বিলম্ব না হয়। ঢাকা-টু-চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী মানুষ বেশি চলাচল করেন।

কমলাপুর রংপুর এক্সেপ্রেসের জন্য অপেক্ষায় থাকা আলাউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ে কোনও ট্রেন ছাড়তে পারেনি। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে স্টেশনে অপেক্ষা করছি। ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা কী যে ভোগান্তি তা বলে বোঝাতে পারবো না।

রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের অপেক্ষায় সুলতান পারভীন। তিনিও বলেন, সকাল ভোর ৬টার ট্রেন ধরতে সাড়ে ৫টায় স্টেশনে এসেছি কিন্তু সেই ট্রেন ছাড়ল সকাল সাড়ে ৯টায়।

লালমনি এক্সেপ্রেস ট্রেনের চালক সুজন মণ্ডল বলেন, ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয় নয়, কিছু যান্ত্রিক ক্রুটি ও যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে দেরিকেই দায়ী করছেন। তবে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের কিছুটা বিলম্বকে স্বাভাবিক ধরে নেয়ার জন্য যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানান।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, ঈদ যাত্রায় প্রতিটি স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১-২ বেশি সময় দাঁড়াতে হচ্ছে। সেখানে দেখা যায়, একটা ট্রেন দেরি হলে অন্য ট্রেনের ওপর চাপ পড়ছে। তবে এটিকে বিলম্ব বলা যাবে না। কমলাপুর স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়া হচ্ছে। তবে দু’একটা ট্রেন বিলম্বে ছাড়ায় সেই ট্রেনের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। তবে আমরা চেষ্টা করছি যেন সব ট্রেন যথাসময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে পারে।

আস/এসআইসু

 

Facebook Comments Box