শঙ্কার মধ্যেই হবে নৌপথে যাত্রা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

এখনো লঞ্চগুলোতে জোড়াতালি দেয়ার কাজ চলছে- সুমন আহমেদ সানি
ঈদ এলেই প্রিয়জনদের সাথে আনন্দটা ভাগাভাগি করে নিতে মাতৃভূমির দিকে ছুটে চলে কর্মজীবী মানুষরা। সে যাত্রা যত কষ্টই হোক প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ করতে তারা সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত।

তবে সেটা যদি ঝুঁকি বা শঙ্কা হয় তাহলে তারা কি করবে? এবছর নৌপথে প্রায় অর্ধকোটি মানুষ ঘরে ফিরবেন বলে সম্ভাবনা করছেন বিআইডব্লিউটিএ। যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি তারা সম্পন্ন করেছেন।

গত ৩০ এপ্রিলে নৌ প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে এক আইন শৃঙ্খলা বৈঠক হয়। বৈঠকে সকল নৌবন্দরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, ডিসি, পুলিশসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবারের ঈদযাত্রা ঝুঁকিমুক্ত করতে সব প্রস্তুতি তারা সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ।

অন্যদিকে অতিরিক্ত আয়ের আশায় ফিটনেসবিহীন অনেক লঞ্চ ঈদ সার্ভিসে প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন একটি মহল। তারা বলেন, ইতোমধ্যেই ডকইয়ার্ডে ২০-২৫টি ফিটনেসবিহীন লঞ্চ প্রস্তুত করেছে বলে সূত্রটি জানায়।

তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন, এবছর কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ যাত্রা করতে পারবে না। সার্ভে রিপোর্ট ব্যতীত কোনো সময় দেয়া হবে না তাদের। সুতরাং তাদের যাত্রা করার কোনো সুযোগ নেই।

ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ২৫০ যাত্রীবাহী লঞ্চ। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝড় মৌসুম ও অবৈধ মালবাহী জাহাজের কারণে ঈদে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নৌ পথ। পাশাপাশি সদরঘাটে লঞ্চের তুলনায় পন্টুন অনেক কম থাকায় যাত্রী ভোগান্তি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ বলছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে চার ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের গুরুত্বপূর্ণ মিয়ারচর চ্যানেল। এখানে থেকে প্রতিদিন শতশত যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করলেও নেই প্রয়োজনীয় পথ নির্দেশক বয়া বাতি। লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ ভরা ঝড় মৌসুমে হওয়ায় কুলকিনারাহীন নদীতে বয়া বাতি না বসালে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নদীপথ।

ঈদে সে ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বাড়াবে নৌ পথে অদক্ষ চালক দিয়ে চলাচল করা মালবাহী নৌযান। তবে ইতোমধ্যেই বিআইডব্লিউটিএ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঈদের তিন দিন আগে ও পরে কোনো ধরনের মাল বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে ৩০ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সেবা পক্ষ উপলক্ষে তাদের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন সেবা। মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য মওকুফ করা হয়েছে টার্মিনাল ফি।

এছাড়াও তাদের জন্য লঞ্চে বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে সদরঘাটে পন্টুন কম থাকায় যাত্রী ভোগান্তি বাড়বে বলেও মনে করেন মালিকরা। বিআইডব্লিউটিএ বলছে, এ মুহূর্তে ঈদের আগে আর পন্টুন বাড়ানো সম্ভব নয়।

তবে যাত্রীদের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঈদে মালবাহী নৌযান চলাচল বন্ধের পাশাপাশি ঝড়ের পূর্বাভাস থাকলে কোনো লঞ্চ ছাড়তে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রীচাপ বিবেচনায় ৪৩টি নৌ রুটের মধ্যে ঢাকা-বরিশাল রুটে, ঢাকা-চাঁদপুর রুটে ও ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে লঞ্চের পাশাপাশি বিশেষ সার্ভিসও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, ঈদে প্রয়োজনীয় লঞ্চের পাশাপাশি আরও বাড়তি সার্ভিসের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তার ব্যবস্থা করা হবে। যদি তিন নম্বর বিপদসংকেত পড়ে তবে সমস্ত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। এক্ষেত্রে তেমন কিছু করার নেই।

বিআইডব্লিউটিএ-র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মজুমদার আমার সংবাদকে বলেন, ঈদে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এবছর কোনো ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলতে দেয়া হবে না।

অন্যদিকে সব জায়গায় আমাদের মেডিকেল টিম ও সার্ভিস প্রভাইডার টিম প্রস্তুত আছে। তাছাড়াও আমাদের সহযোগিতা করার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে।

এব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সচিব কাজী ওয়াকিল নওয়াজ আমার সংবাদকে বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। যাত্রীদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে অভিযোগ কেন্দ্র থাকবে। অভিযোগ করলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া কোনো লঞ্চ চলতে দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

ঢাকা নদীবন্দরের হিসেবে এ বছর ঈদ করতে সদরঘাট হয়ে নৌপথে ঘরে ফিরবেন প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। লঞ্চসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিপুলসংখ্যক মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন ঝড় মৌসুম ও ঝুঁকিপূর্ণ মালবাহী নৌযানের কথা বিবেচনায় রেখে সবগুলো সংস্থার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments