লিটন-মোসাদ্দেকের জায়গা কি নেই একাদশে?

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ফাইনাল জেতানো ইনিংস খেলার পরও মোসাদ্দেকের জায়গা নিশ্চিত নয় একাদশে! ফাইল ছবিবাংলাদেশের জার্সি গায়ে তাঁর সর্বশেষ দুটি ইনিংস ৭৩ ও ৭৬ রানের। তবু কি প্রথম একাদশে জায়গা হবে লিটন দাসের? বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচেই বিস্ফোরক এক ফিফটির ইনিংস খেলে অধরা ফাইনাল জিতিয়েছেন। তবু কি মোসাদ্দেক হোসেন জোর গলায় বলতে পারছেন—‘একাদশে আমি থাকবই!’ জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন আবু জায়েদ। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি বোলারদের বিরল এই অর্জনের পরও প্রথম একাদশে তাঁকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আয়ারল্যান্ড সফরেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপের প্রথম একাদশ সম্পর্কে একটা ছবি পাওয়া গেছে। ১৫ জনের স্কোয়াডে একাদশের বাইরের বিকল্প হিসেবেই বিবেচিত হয়েছেন মোসাদ্দেক, লিটন, আবু জায়েদ। তিন পেসার ও দুই স্পিনার খেলালে বাইরে থাকতে হতে পারে রুবেল হোসেনকে। চার পেসার ও এক স্পিনার খেলালে একাদশের বাইরে আসবেন মেহেদী মিরাজ।

মিরাজ আয়ারল্যান্ড সফরে দুর্দান্ত বল করেছেন। ওই ত্রিদেশীয় সিরিজে ১০ ওভারের বেশি বল করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ইকোনমি রেট ছিল তাঁর। ২৪ ওভার বল করে দিয়েছিলেন মাত্র ১০১ রান। উইকেট তিনটি পেলেও রান আটকে রাখার কাজে দারুণ সফল ছিলেন। মিরাজের বোলিং দেশে মুগ্ধ মাশরাফি আড্ডার ছলে বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপেও মিরাজ এমন বোলিং করে গেলে আমাদের সত্যিই একটা চান্স আছে।’

সাকিব-মিরাজ স্পিন জুটি ছিল ত্রিদেশীয় সিরিজে বড় পাওয়াগুলোর একটি। গতকাল ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মিরাজ-সাকিব মার খেয়েছেন। আবার রুবেল শুরুতে জোড়া আঘাত হেনেছিলেন, ভারত কাঁপছিল। ব্যাটিংয়ে নেমে লিটন আস্থার এক ইনিংস খেলেছেন, মুশফিকের সঙ্গে তাঁর ১২০ রানের জুটিটাও ছিল দারুণ।

প্রস্তুতি ম্যাচ বলে সবাইকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে পেরেছে বাংলাদেশ। আসল বিশ্বকাপে তো সেই সুযোগ নেই। কিন্তু টানা দুই ইনিংসে ভালো খেলেও আসল ম্যাচে দর্শক হয়ে বসে থাকার অভিজ্ঞতা আবারও কি হজম করতে হবে লিটনকে? ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালটাও যেমন খেলা হয়নি তাঁর। আবার ওই ফাইনালেই ২৭ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক বিশ্বকাপের মূল পর্বে কতটুকু জায়গা পাবেন? লিটন-মোসাদ্দেকদের জায়গা করে দিতে হলে তো পছন্দের একাদশের দুজনকে বাইরে চলে আসতে হয়। কে হবেন সেই দুজন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বাংলাদেশকে খুঁজতে হবে। রিজার্ভ বেঞ্চ ভালো করায় মধুর এক সমস্যাতেই পড়েছে দল। মিনহাজুল আবেদীন অবশ্য এটিকে ‘সমস্যা’ বলতেই রাজি নন, যতই তা ইতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হোক না কেন। বিসিবির প্রধান নির্বাচক প্রথম আলোকে বললেন, ‘সমস্যা কেন হবে? এটা তো বরং সমাধান। দল দ্রুত কোনো বিকল্প চাইলে সেই বিকল্প তৈরিই থাকছে।’

তবে কি বাংলাদেশ দল এখনো তাদের প্রথম পছন্দের একাদশে অটল? একটা ভাবনা চলছে সাব্বিরের বদলে মোসাদ্দেককে জায়গা করে দেওয়া যায় কি না। গত প্রিমিয়ার লিগে সাব্বির ভালো করেননি। বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সফর আয়ারল্যান্ডে গায়ে সেভাবে রোদই মাখাতে পারেননি। যখন পেরেছেন, তিনি আবার ব্যর্থ। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তুতি ম্যাচে শূন্য, শূন্য ফাইনালেও। এর মধ্যে এক ম্যাচে ব্যাট হাতে নামার আগেই খেলা শেষ, আরেক ম্যাচে ব্যাট হাতে নামলেও এক বলও খেলা হয়নি, তাতেই জয়। আরেক ম্যাচে ভূমিকা একটু বাড়িয়ে অপরাজিত সাত! ফাইনালে শূন্য, এরপর কালকের প্রস্তুতি ম্যাচে ৭ রান করেছেন। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গত ৫ ইনিংসে তিনটিতে শূন্য, দুটিতে সাত-সাত করে রান।

বিশ্বকাপের আগে সাব্বির নিজেকে যথেষ্ট প্রস্তুত করে নিতে পারেননি—এটা সত্যি। আবার এও সত্যি, ওয়ানডেতে চার ম্যাচ আগেই সেঞ্চুরি আছে তাঁর। নিউজিল্যান্ড সফরে দুই ওয়ানডেতে এত সাবলীল খেলেছেন, ছয়-সাতে নিজের জায়গাটা পাকাই করে ফেলেছিলেন বলা যায়। এত দ্রুত আবার তাঁর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলাটাও তো অন্যায়।

সাব্বিরের জায়গায় মোসাদ্দেক—এই পরিবর্তন তবু তুলনামূলক সহজ হবে টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য। কিন্তু লিটন দাস? মিনহাজুলের কথায় এটা বোঝা গেল, ওপেনিং জুটিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না বাংলাদেশ, ‘সৌম্য অনেক সময় নিচে খেলেছে, এটা ঠিক। কিন্তু ওপেনিংয়ে তামিম আর ওর জুটিটা দারুণ জমেছে। আর ওপরেই তো সৌম্য এত এত রান করছে, ওকে নিচে নামানোর কথা ভাবা ঠিক হবে না।’ তাহলে সমাধান?

লিটনকে যদি খেলাতেই হয়, সাব্বির-মোসাদ্দেকের সাতে নয়; খেলাতে হবে টপ অর্ডারে। তাঁকে তিনে খেলিয়ে সাকিবকে ব্যাটিং অর্ডারের নিচে নামানো বিকল্প হতে পারে। ত্রিদেশীয় সিরিজে তিন নম্বরে খেলে সাকিব সবচেয়ে ধারাবাহিক ছিলেন। ওই সফরে বলেওছিলেন, তিন নম্বরেই ব্যাট করতে চান। কিন্তু ১০ ওভারের বোলিংয়ের ধকল সামলাতে হয়। দ্রুত ওপেনিং জুটি ফিরে এলে শুরুতেই ব্যাটিংয়ের চাপটাও নিতে হবে—সাকিবকে তিনে না খেলানোর পেছনে এই ভাবনা কাজ করতে পারে। কিন্তু লিটন ঢুকে পড়লে একাদশটা কী হবে? চারে মিঠুন খেললে সাকিব পাঁচে, মুশফিককে নেমে যেতে হবে ছয়ে। তাহলে মাহমুদউল্লাহ সাতে?

বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলানো এখনো বাকি। বাংলাদেশের হাতে অবশ্য সময় আছে ঢের। কাল বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলেও বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২ জুন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments