লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর-আসনে শূন্যপদে জাতীয় পার্টি হতে সংসদ সদস্য প্রার্থী বোরহান উদ্দিন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ  জাতীয় সংসদীয় লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদর একাংশ) আসনে শূন্যপদে আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি হতে সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব বোরহান উদ্দিন আহমেদ মিঠু
জাতীয় সংসদীয় লক্ষ্মীপুর-২(রায়পুর-সদর একাংশ) আসনে শূন্যপদে আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি হতে সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ মিঠু)। একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা ও দক্ষ সংগঠক এবং তৃণমূলে বা রাজধানীর বাইরে মফস্বলে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার একবারে শুরু হতেই জাতীয় পার্টির নিবেদিত ও ত্যাগী এই কর্মীর বর্ন্যাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বোরহান উদ্দিন মিঠু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা । লক্ষ¥ীপুরের মজু চৌধুরী হাট সংলগ্ন ২০নং চর রমনী মোহন ইউনিয়নের চর আলী হাসানে উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত বিশালাকার জমিনে গড়ে তুলেছেন পারিবারিক কৃষিখামার, নোয়াখালীতে চিকিৎসা সেবায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন বহুল পরিচিত ও স্বনামখ্যাত দুটি হাসপাতাল যথাক্রমে ‘রয়্যাল হসপিটাল (ইউনিট-১)’ ও রয়্যাল হসপিটাল ইউনিট-২) এবং মায়ের নামে ’ফিরোজা ডায়াগনস্টি সেন্টার” । সম্পৃক্ত আছেন বেশ কয়েকটি মানবিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে। জনাব বেরাহান উদ্দিন মিঠু ১৯৬৭ সালে রায়পুর উপজেলার ৩নং চর মোহনা ইউনিয়নের চালতাতলী পাচঁ মিয়াজি(পাচুঁ মিয়াজি বাড়ি) বাড়িতে পৈত্রিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোটবেলার বেশকিছুটা সময় নানা বাড়ি ১নং চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জের গনি হাওলাদার বাড়িতে কেটেছে। পরবর্তীতে বাবা ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহম্মেদের বদলী জনিত চাকুরী ও বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটে শিক্ষকতার সুবাদে দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষাজীবন কাটে । বর্তমানে রায়পুরে নিজহাতে গড়া বাড়িতেই বিভিন্ন কর্ম সংস্থান প্রকল্প গড়ে তুলতে ও স্থানীয় জাতীয় পার্টি সংগঠিত করতে বসবাস এবং তারঁ বাবা-মা’ চিরনিদ্রায় শায়িত রায়পুরেরই পারিবারিক কবরস্থানে।
বোরহান উদ্দিন মিঠু জাতীয় পার্টির অন্যান্য অনেক নেতার মতো দল-বদলের খেলায় কখনো যোগ দেননি কিংবা কখনো দলবদলেরও চেষ্টা করেননি। বাংলাদেশে জাতীয় পার্টি ও তার অঙ্গ-সংগঠন প্রতিষ্ঠার একেবারে শুরু হতেই এই দলটির সাথে যুক্ত হোন এবং জাতীয় পার্টির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের দু:সময়ে ও দলের বিপর্যয়েও ৯০ পরবর্তী ৩০ বছরসহ প্রায় ৩৭ বছর ধরে জাতীয় পার্টির সাথে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে যখন তারঁ বিখ্যাত “১৮ দফা” প্রণয়ণ করেন তখন হতেই বোরহান উদ্দিন মিঠুমূলত: এই দলটির সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৩ সালে “ নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ” এর সদস্য হন।
বোরহান উদ্দিন মিঠু যখন বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ‘নোয়াখালী সরকারি কলেজের ‘বি.কম’-এ অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৮৬ সালে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাজনৈতিক দল হিসেবে “জাতীয় পার্টি” গঠন করে এবং একই বছর জাতীয় পার্টির সহযোগী সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত “জাতীয় ছাত্র সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় নোয়াখালী কলেজে “ জাতীয় ছাত্র সমাজ’এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে ছাত্র সংগঠনটি সংগঠিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে নেমে পড়েন। ১৯৮৬ সালেই প্রথমবারের মতোই “জাতীয় ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে “ বোরহান-রেজাউল’ পরিষদে কলেজ ছাত্র সংসদে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দি¦তাপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নেন।
‘জেলা ছাত্র সমাজ’র আহবায়ক কমিটির ‘যুগ্ম আহবায়ক’ এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে আকস্মিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে প্রায় ৭ মাস হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন। পরম করুণাময় আল্লাহ্র রহমতে সুস্থ হয়ে ১৯৮৯ সালে জাতীয় পার্টির যুব সংগঠন “ জাতীয় যুব সংহতি”তে জেলা কমিটির ‘সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ৯০(নব্বই)পরবর্তী জাতীয় পার্টির চরম দূুর্দিনে ১৯৯১ সালে জেরা জাতীয় পার্টির সদস্য হন বোরহান উদ্দিন মিঠুএবং কিছুদিনের মধ্যেই জাতীয় পার্টির ‘ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক’ হন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির সাথে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন, ২০১০-এ জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠিনক সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করে সংগঠনটিকে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন চড়াই লড়াইয়ের মাঝেও সংগঠিত করতে নিরলস কাজ করে যান। পরবর্তীতে দলের অনেকেই রাজনৈতিক স্বার্থ ও ফায়দা হাসিলে আগের মতোই জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেও বোরহান উদ্দিন মিঠু একজন নিরলস কর্মীর মতো জাতীয় পার্টিকে আকঁেড় ধরে থাকেন। ২০১৭ সালে দলের দু:সময়ে জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির “ সদস্য সচিব’এর দায়িত্ব পান এবং আহবায়কের দায়িত্ব পান দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি “এসএ পরিবহন’ ও ‘এসএ টিভি’র সত্ত্বাধিকারী জনাব সালাউদ্দিন আহম্মদ্ ২০১৮ সালে কাউন্সিলে জেলা জাতীয় পার্টির “ সেক্রেটারি’ নির্বাচিত হয়ে জেলা হতে প্রান্ত পর্যন্ত জাতীয় পার্টিকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ; বর্তমানে নেতা-কর্মীদের কাছে জেলা সভাপতি জনাব সালাউদ্দিন আহম্মেদ সাহেবের মতো জেলা সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন মিঠুও একজন আস্থা ও ভরসার প্রতীক। সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এই রাজনীতিক নোয়াখালী সদর প্রাইভেট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ মালিক সমিতির দীর্ঘদিন সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশাগত জীবনে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতো জেলা পর্যায়ে বোরহান উদ্দিন মিঠু ঠিকাদারী ব্যবসায় সম্পৃক্ত না হলেও প্রচন্ড পরিশ্রম ও তিলে তিলে গড়ে তোলা উনার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলিতে বহু লোকের কর্ম সংস্থানের পাশাপাশি অসংখ্য দু:স্থ ও অসহায় রুগীদের চিকিৎসা সেবা যতটা সম্ভব নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হয় । মনে প্রাণে জাতীয় পার্টির এই কর্মী ২০১০ সালে উনার প্রথম হসপিটাল“রয়্যাল হসপিটাল” উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা জনাব জি.এম.কাদের এমপি, পরবর্তীতে ২০১৬ সালে রয়্যাল হসপিটাল ইউনিট-২ উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মশিউর রহমান রাঙা এমপি।
আজন্ম তুখোর একজন সংগঠক ও রাজনৈতিক কর্মী বোরহান উদ্দিনের পৈত্রিক ভুমি রায়পুর দেশের অন্যান্য জেলা তুলনায় বেশ সম্ভাবনাময় হলেও কাঙ্খিত উন্নয়ন তেমন হয়নি। বোরহান উদ্দিন মিঠুর একান্ত ইচ্ছা ও তপস্যা যে অঞ্চলে তারঁ পিতা-মাতা,দাদা-দাদী,নানা-নানীসহ পুরো গোষ্ঠী চির নিদ্রায় শায়িত, নিজেরও শেষ ঠিকানা পারিবারিক কবরস্থান ,সেই এলাকার মানুষের উন্নয়নে ও জনসেবায় একজন নিবেদিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জীবনের বাকিটা সময় অতিবাহিত করা।

Facebook Comments Box