লক্ষ্মীপুর পলোবন দেখিয়ে প্রবাসি’র স্ত্রী’কে বিয়ের পর টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও

  1. লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ জেলা সদরের চররুহিতা ইউনিয়নে নিজাম নামের এক বখাটে এলাকার অবলা নারীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও নানা লোভনীয় প্রলোভন দিয়ে নারীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার। তার এ কাজের সহযোগী রয়েছে পান্না নামের এক মহিলা। মাথায় টুপি, মুখে দাঁড়ি রেখে নিজেকে সূফি সাধক সেজে চালাচ্ছে তার প্রতারণার কৌশল। তার অপকৌশলের প্রথম চয়েজ হচ্ছে প্রবাসি স্বামীদের স্ত্রীরা। কিছু উপঢৌকন দিয়ে আরেক প্রবাসির স্ত্রী পান্নার মাধ্যমে নারীদের সাথে যোগাযোগ করা তার সহজ পথ।

নিজামের প্রতারণারা জালে আটকা পড়ে হানিফ নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী রহিমা। তার কাছ থেকে নানা কৌশলে স্বামীর পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে অবশেষে রহিমাকে বাধ্য করে বখাটে নিজামের কাছে বিয়ে বসতে।

রহিমা খাতুন জানান, গেল কয়েক মাস পূর্বে নিজাম রহিমাকে পান্নার মাধ্যমে ডেকে লক্ষ্মীপুরে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে রহিমার কাছ থেকে ননজুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে ও নীল কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পান্না বেগমও সেখানে স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর দেয়। পরে জানতে পারে টাকা ও স্বর্ণালংকা আত্মসাৎ করতে রহিমাট সাথে নিজাম বিয়ের কাজটি সেরে নিয়েছে বলে তিনি জানান।

ফারুক হোসেন নামীয় এক প্রবাসির স্ত্রী পান্না বেগম, তিনি সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

আপর দিকে নিজাম উদ্দিন একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ওবায়েদ উল্যার পুত্র হয়।

হানিফ বিগত ২৮/৭/২০২০ইং তারিখে লক্ষ্মীপুর থানায় স্ত্রী রহিমা, নিজাম উদ্দিন ও পান্না কে বিবাদী করে নগদ ২০লক্ষ টাকা ও ১০ভরি স্বর্ণালংকার আত্মাসাতের অভিযোগ আনায়ন করেন। তিনি একই ইউনিয়নের মফিজ উদ্দিনের পুত্র হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। সত্যতা পেলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

হানিফ জানান, বিদেশে আমার সারা জীবনের কষ্টার্জিত টাকা ও স্বর্ণাংকার আমার স্ত্রী রহিমার কাছে গচ্ছিত ছিল। আমার এ সম্পদ আমার স্ত্রী পরকীয়ার কারণে নিজাম উদ্দিন ও পান্না আত্মসাৎ করে আমার সংসার তছনছ করে আমাকে নি:স্ব করে ফেলেছে। আজ আমি দিন মুজুর হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে পান্নার সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেন। নিজাম উদ্দিনের সাথে তার যোগাযোগ ছিল, তবে রহিমার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেননি বলেও জানান।

এদিকে এলাকাবাসি জানান, বখাটে নিজাম মাথায় টুপি মুখে দাঁড়ি রেখে বিশ্বাস লাগিয়ে এলাকা নিরিহ মহিলাদের কে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে প্রতারণা করছে। আপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এর কারণে এলাকার যুব সমাজ নষ্ট হচ্ছে। মা-বোনদের ইজ্জত লুন্ঠন হচ্ছে। তারা দুশ্চরিত্রের নিজামের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেছেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয় জানার জন্য নিজামের বাড়ীতে গেলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে আসেননি। তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ভাতিজির কাছে ফোন দিয়ে বাড়ী ত্যাগ করেন।

Facebook Comments Box