লক্ষ্মীপুরে দত্তপাড়ায় শপিং মল খোলার চেষ্টা পুলিশের অভিযানে বন্ধ

84

লক্ষ্মীপুরে দত্তপাড়ায় শপিং মল খোলার চেষ্টা পুলিশের অভিযানে বন্ধ

বদরুল আলম, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।
লকডাউনের সময় সারাদেশে ঔষধ ও মুদি দোকান ছাড়া অন্যান্য সকল দোকান বন্ধ রাখতে সরকার কর্তৃক কঠোর নির্দেশনা থাকলেও মানছেন না কাপড় ব্যবসায়ীরাসহ অন্যান্য দোকানীরা। বাধা উপেক্ষা করেও দোকানীরা দোকান খুলে পন্য বিক্রয়ের চেষ্টা করলে দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ জনাব হাসান জাহাঙ্গীর হোসেন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে এসে তা বন্ধ করে দেয়।

এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলাতে করোনা আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ায় ১২ ই এপ্রিলের পর আবারো অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল। না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ ও রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে, ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে আসা আক্রান্ত দুই দুইজন ব্যাক্তির করোনা সনাক্তের পর লক্ষ্মীপুরে করোনা ভাইরাস আক্রান্তে প্রথম মারা যায় রামগঞ্জে ৫৫ বছরের এক বৃদ্ধ। বর্তমানে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা দাঁড়ালো ১শ’ ৩২জন। মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪০জন।
এদের মধ্যে সদরে ৪৯জন, রামগঞ্জে ২৭জন, রায়পুরে ৩৪জন, রামগতিতে ১২ জন ও কমলনগরে ১০জন রয়েছেন।

দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ হাসান জাহানঙ্গী হোসেন বলেন আমরা সরকারের দেয়া নির্দেশনা যথাভাবে পালন করে যাচ্ছি। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে আমরা তা সমাধান দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন করোনা মোকাবেলায় লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া ইউনিয়নসহ বশিকপুর ও উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। তিনি জানান বর্তমানে পুলিশের চোখে ঘুম নেই। চতুর্দিক থেকে ফোন আসছে। বাজারে দোকান খুলে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে গায়ের সাথে গা ঘেঁষে কেনাবেচা করছে। পুরুষ না এসে মহিলাদের বাজারে পাঠানো হচ্ছে। দোকানের সার্টার বন্ধ রেখে ভিতরে কেনা বেচা চলছে। এভাবে চলতে থাকলে করোনার ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে। কোথাও লোক মারা গেলে করোনার ভয়ে কেই তার কাছে আসেনা। পুলিশ সেখানে গিয়ে মৃত লাসের দাপনের ব্যবস্থা করতে হয়। পুলিশের ও করোনা ঝুঁকি রয়েছে। পুলিশ নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের স্বার্থে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। বিভিন্নস্থানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক আসলে আমরা তাদের হোম কোয়ারিন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করি। কেউ নিজে বাড়িতে আসলে তাকে আমরা কোথায় পাঠাবো সে কোথায় যাবে। তাই সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য অনুরোধ করে যাচ্ছি। মসজিদ গুলোতে যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করতে পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখছে আমাদের পুলিশ সদস্যরা। এখন পর্যন্ত এই এলাকায় একজনও করোনা পজেটিভ আসেনি। তাই আমরা জনগনকে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজটি অব্যাহত রাখছি। আল্লাহ যেন সবাইকে মহামারি থেকে রক্ষা করে সেই কামনা করছি। করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশরাও নিরাপদ নয়। অনেক পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে মারাও গেছে কয়েকজন। তবুও দেশের স্বার্থে জনগনের স্বার্থে নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। তিনি জানান যারা ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা করতে আসেন তাদের বুঝা উচিত পরিস্থিতি এখন ভয়াভহ। আমিও আমার স্ত্রী সন্তানকে বাড়িতে রেখে এখানে ঈদ করতে হবে। মহামারি আরো বেড়ে গেলে পুলিশের তখন কি করার থাকবে। তাই তিনি জনগনকে আরো সচেতন হওয়ার জন্য আহবান জানান।

Facebook Comments