লক্ষ্মীপুরে সরকারি খাল ৩ পরিবারের দখলে,পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে এলাকাবাসী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কয়েক বছর ধরে সরকারি খালের ওপর বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে তিনটি পরিবার। এতে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছে এলাকাবাসী। বর্ষাসহ বিভিন্ন মৌসুমে বৃৃষ্টি এলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অল্প বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজ গ্রামের শতাধিক পরিবার প্রায় ১০ বছর ধরে এ দুর্ভোগের শিকার। সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে সরোজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। অভিযুক্ত পরিবারগুলোর কর্তারা হলেন আবদুর রব, আলাউদ্দিন ও মফিজুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্র জানায় মেঘনা নদী সংযুক্ত রামগতি পৌরসভার সবুজগ্রামের সেন্ট্রাল খালের প্রায় ১০০ শতাংশ (দাগ নং-২৮৫৬) এলাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের দখলে রয়েছে। গত ১০ বছর আগে পৌর শহরের বাণী সিনেমাহল সংলগ্ন এলাকায় তিনটি পরিবার ১৪ শতাংশ খাল দখল ও বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। এতে খাল দখল হয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে বর্ষাসহ অন্যান্য মৌসুমে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়ে আশপাশের বাসিন্দারা। প্রতিবাদ করলেই আবদুর রব, আলাউদ্দিন ও মফিজুল ইসলামরা সবাইকে মামলা-হামলার ভয় দেখায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ খাল দখল নিয়ে সরকারের সঙ্গে ওই তিন পরিবারসহ কয়েকজনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কয়েক বছর আগে একটি মামলা সরকারের পক্ষে রায় হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত পরিবারগুলো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। কিন্তু খাল দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ চলমান করতে খননের দাবি জানান স্থানীয়রা।

ভূক্তভোগী এলাকাবাসী আবদুল হক বলেন, খাল ভরাট করে ওই তিনটি পরিবার বসতঘর নির্মাণ করে এলাকাবাসীকে দূর্ভোগে পেলেছে। পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে খালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে বর্ষাসহ বিভিন্ন সময় বৃষ্টি এলেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়।

৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ শামছুদ্দিন বলেন, ১২ বছর আগেও খালের পানি প্রবাহ ছিল। কিন্তু ওই তিনটি পরিবার জোরপূর্বক খাল দখল করেছে। তাদের কারণে পুরো এলাকার মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। বর্ষায় খালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নোংরা পানিতে এলাকা প্লাবিত হয়। এতে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে পানিতে হাটাচলা করতে হয়। খাল দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের ছেলে জাবেদ হোসেন ও আবদুর রব জানায়, তাদের ঘরের কিছু জমি সরকারি খালের ওপর রয়েছে। তবে পুরো জমি নয়। খালের দু’পাশের মানুষের ব্যবহারের কারণেই খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে ভরাট হয়ে যায়। তারা একা খাল ভরাট করেনি। সরকার খাল খননের উদ্যোগ নিলেই তারা জমি ছেড়ে দেবে।

রামগতি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, খাল দখল নিয়ে মামলা চলে। এনিয়ে দলিলাদি পর্যালোচনা করা হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া পাশেই সরকারি ১০ শতাংশ জমিতে অনুপ্রবেশ নিষেধ করে নির্দেশনা ঝুলানো রয়েছে।

Facebook Comments