লক্ষ্মীপুরে মেঘনার জোয়ারে নিখোঁজ শতাধিক মহিষ

মেঘনার জোয়ারে নিখোঁজ শতাধিক মহিষ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মেঘনায় হারিয়ে গেছে শতাধিক মহিষ|গত বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ভোর রাতে নদীর প্রবল জোয়ারে উপজেলার চর আব্দুল্যাহ এলাকার দুটি বাথান (খামার) থেকে মহিষ গুলো ভেসে যায়|এসব মহিষ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয়রা|

বাথান মালিক মো. নুর নবী ও আবুল কাশেম জানান, রামগতির মেঘনায় জেগে ওঠা চর আবদুল্লাহতে তারা গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মহিষ পালন করে আসছেন|তাদের বাথানে বিভিন্ন মালিকের প্রায় এক হাজার মহিষ রয়েছে|ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানে তারা মাটির কিল্লা (উচুঁ মাটির ভিটে) স্থাপন করেন। জোয়ার এলে চরের মহিষগুলো কিল্লাতে আশ্রয় নেয়|

কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ার ও নদীর তীব্র ঢেউয়ে বাছুরসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মহিষ ভেসে যায়|শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রামগতির বালুর চর, ঠুয়ারচর, বাংলাবাজার, আসলপাড়া, সেন্টারখাল, কালিরখাল থেকে স্থানীয় লোকজন ৩৫০টি মহিষ উদ্ধার করলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক মহিষ। এসব মহিষ উদ্ধারে এখনো চেষ্টা চলছে|

চর আব্দুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মঞ্জুর বলেন, রামগতি থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম ওই চরের বিভিন্ন বাথানে দেড় হাজারেরও বেশি মহিষ পালন করা হয়। মহিষ মালিকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাটির কিল্লা স্থাপন করেছেন|ওই মাটির কিল্লা যথেষ্ট নয়। এছাড়া অস্বাভাবিক জোয়ার এলে ওই কিল্লা ডুবে যায়। ভেসে যায় মহিষ। যে কারণে প্রতিবছর শত শত মহিষ জোয়ারে ভেসে নিখোঁজ হয়। এজন্য এ এলাকায় সরকারিভাবে মাটির কিল্লা স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানানো হয়েছে|

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল হক বলেন, মহিষ নিখোঁজ ও উদ্ধারের বিষয়ে তিনি খোঁজ-খবর রেখেছেন। চরে পাঁচটি মাটির কিল্লা স্থাপনের ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।এছাড়া উপজেলা পরিষদ থেকেও দুইটি কিল্লা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

Facebook Comments