লক্ষ্মীপুরের ৬ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা,কারাগারে প্রেরন

class="gs">
এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টারঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ছয় ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের (৩৯) বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার ( ৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী শাহাদাত হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীর মা সাহেদা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এতে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরকে আসামি করা হয়। শনিবার দুপুরে (৮ অক্টোবর) ওই শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কয়েক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, গত বুধবার তাদের ইংরেজি ক্লাস চলছিল। এ সময় হঠাৎ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির কাঁচি দিয়ে তাদের ছয়জনের মাথার চুল কেটে দেন। সহপাঠীদের সামনে লজ্জিত হয় তারা। এর আগে ওই দিন রাত নয়টার দিকে উপজেলার কাজির দিঘিরপাড় এলাকার নীজ বাড়ি থেকে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরকে আটক করে পুলিশ। তিনি হামছাদী কাজির দিঘিরপাড় আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও বামনী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে আছেন এবং বামনী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী।
গত শুক্রবার মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছয় ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদের পাঠদান বন্ধ করে বারান্দায় ডেকে এনে চুল কেটে দেন শিক্ষক।
গ্রেপ্তারের আগে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির বলেছিলেন, দশম শ্রেণির ওই ছাত্ররা ক্লাসের শৃঙ্খলাভঙ্গ করে আসছে। এ জন্য তাদের অল্প করে কিছু চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। বাকি চুল তারা সেলুনে কেটেছে। তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ নেই।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, গত বুধবার মাদরাসায় তাদের ইংরেজি ক্লাস চলছিল। এ সময় হঠাৎ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির কাঁচি দিয়ে তাদের ছয়জনের মাথার চুল কেটে দেন। ঘটনার পর তারা ক্লাস না করে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যায়। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সহপাঠীদের সামনে লজ্জিত হয় তারা।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, কোনো শিক্ষক ছাত্রদের চুল কাটতে পারেন না। এ ঘটনায় এক ছাত্রের অভিভাবক থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মাদ্রাসার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরকে শিশু নির্যাতন আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বামনী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুরো ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
Attachments area
Facebook Comments Box