লক্ষ্মীপুরের রায়পু‌রে ব্যবসায়ী আলমগী‌রের ২ হত্যাকারী আটক, আড়াই লক্ষ টাকা উদ্ধার”

 

নিউজ ডেক্স ।।লক্ষ্মীপুর জেলার নবাগত চৌকশ পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জান এর বু‌দ্ধিদীপ্ত দিক নি‌র্দেশনায় হত্যাকা‌ন্ডের ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘন্টার ম‌ধ্যেই দুই হত্যাকারী‌কে গ্রেফতার কর‌তে সক্ষম হ‌য়ে‌ছে ডি‌বি পু‌লিশ। ঘটনায় প্রকাশ রায়পু‌রের বি‌শিষ্ট ব্যবসায়ী আলগী‌রের ভাসমান গলাকাটা লাশ গত ২১ আগস্ট ভোর ৬টার দি‌কে লক্ষ্মীপুর সদর থানাধীন কাজীর দী‌ঘির পাড় নামক এলাকার এক‌টি পুকুর থে‌কে উদ্ধার ক‌রে পু‌লিশ। এরপর পু‌লিশ সুপার পু‌লি‌শের প্র‌তি‌টি বিভাগ‌কে হত্যাকারী‌দের খুঁ‌জে বের করার বি‌ভিন্ন দিক নি‌র্দেশনা দি‌য়ে ব্যাপক সাঁড়াশী অ‌ভিযান শুরু ক‌রেন। মাত্র ৩৬ ঘন্টার ম‌ধ্যেই চ‌লে আ‌সে কাঙ্খিত সফলতা। আটক হ‌য়ে‌ছে দুই হত্যাকারী, তা‌দের ব্যবহৃত সিএন‌জি ও নিহত আলমগী‌রের কা‌ছে থাকা ৬ লক্ষ টাকার ম‌ধ্যে আড়াই লক্ষ টাকা। আটককৃত দুইজনই হত্যাকা‌ন্ডের কথা স্বীকার ক‌রে কো‌র্টে ১৬৪ ধারায় স্বীকা‌রো‌ক্তিমূলক জবানব‌ন্দিও দি‌য়ে‌ছেন। তা‌দের দেয় তথ্যম‌তে ঘটনার সা‌থে জ‌ড়িত আ‌রো একজন পলাতক র‌য়ে‌ছে। তা‌কেও গ্রেফতা‌রের জোর তৎপরতা চল‌ছে।
ঘটনার বিবর‌ণে জানাযায়, নিজের পরিশোধকৃত ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করতে চলন্ত সিএনজিতে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক মেহেদী হাসান রুবেল। কিভাবে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়টি সিএনজি চালক সাগর আদালতে জবানবন্দি দেন। আজ (২৩ আগস্ট) শুক্রবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোকতার হোসেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় দুই আসামীকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল কাদের এর আদালতে তোলা হয়। পরে হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মেহেদী হাসান রুবেল ও সিএনজি চালক সাগর কিভাবে ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে সে বিষয়টি আদালতে বর্ননা দেয়। তাদের দুইজনকে জেল হাজতে প্রেরণ করে আদালত। এর আগে সদর উপজেলার পশ্চিমবটতলী এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান রুবেল ও দক্ষিন মান্দারীর জামাল উদ্দিনের ছেলে সিএনজি চালক সাগরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সিএনজি ও আত্মসাতকৃত আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার মান্দারী বাজারের সুপারী ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান রুবেল ও রায়পুর শহরের ব্যবসায়ী নিহত আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দুইজন ব্যবসা করে আসছিল। এর মধ্যে মেহেদী হাসান রুবেলের কাছে ৬ লাখ টাকা পাওনা হন আলমগীর হোসেন। মঙ্গলবার বিকেলে আলমগীর হোসেন ওই পাওনা টাকার জন্য মান্দারী বাজারে রুবেলের কাছে আসেন। এসময় আলমগীর হোসেনকে তিন লাখ টাকা দেয় রুবেল। আরো তিন লাখ টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি সিএনজি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে। এসময় ফয়েজ নামে এক পেশাদার কিলারকে সিএনজিতে উঠিয়ে নেয় রুবেল। আলমগীর হোসেনকে সিএনজির মাঝখানে বসিয়ে ডানে পাশে বসে কিলার ফয়েজ ও বাম পাশে রুবেল। পরে মীরগঞ্জ সড়কে চলন্ত সিএনজিতে ওই তিন লাখ টাকা আত্নসাৎ করার জন্য আলমগীর হোসেনের হাত-পা চেপে ধরে রুবেল ও গলাকেটে হত্যা করে ফয়েজ। পরে তার লাশ কাজিরদিঘীর পাড় এলাকায় একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে চলে যায় ঘাতকরা। ওই তিন লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা পেশাদার কিলার ফয়েজকে দেয়া হয়। বাকী আড়াই লাখ টাকা রুবেল নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের গলাকাটা লাশ পুকুরে ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহত আলমগীর হোসেনের ভাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত আলমগীর হোসেন রায়পুর উপজেলার ৭নং বামনী ইউনিয়নের সাইছা গ্রামের মৃত. বশির উল্যাহ’র ছেলে। সে রায়পুর পৌর শহরের শাহী হোটেল সংলগ্ন তানহা কম্পিউটার ও সুতার দোকানের মালিক। এছাড়া সে সুপারী, সয়া‌বিন ও ই‌টের ব্যবসার সা‌থেও জ‌ড়িত ছিল।

Facebook Comments