লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ইউপি নির্বাচনে সন্ত্রাস আতঙ্কে ভোটার-প্রার্থীরা 

লক্ষ্মীপুর রামগতি প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুটি ইউনিয়ন বড়খেড়ী ও চর আবদুল্যা নির্বাচন । এর একটি ইউনিয়ন মেঘনা নদী রামগতির বিচ্ছন্ন দ্বীপ চরঞ্চল  আব্দুল্লাহ।

এই দ্বীপে  সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থা না থাকায় এই কেন্দ্র গুলোকে অধিক ঝূঁকিপুর্ন মনে করছেন ভোটার এবং   প্রার্থীরা।

 লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার ৫নং চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদ সরকারি হিসেবে ২২ বর্গ মিটার আয়তনের এ ইউনিয়নে মোট জনসংখ্যা ৪০ হাজার হলেও বর্তমানে এ চরের জনসংখ্যা মাত্র ১৫ হাজার। এর মধ্যে ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৯শ ৩৭ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২, সাধারণ সদস্য পদে ২১ এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
উপজেলা সদর থেকে যাতায়াত সমস্যাসহ বহুমুখী কারনে এ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়টি রামগতি পৌরসভার আলেকজান্ডার বাজারে অবস্থিত।
চর আবদুল্যার কয়েকজন ইউপি সদস্য প্রার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে এক তৃতীয়াংশ ভোটার তাদের স্থায়ী ঠিকানায় থাকেন না। নাগরিক জীবনের নানান অসুবিধার সম্মুখীন হওয়ার এ চরে স্থায়ীভাবে কেউই থাকতে চান না। বেশিরভাগ ভোটা’ই উপজেলার মূল ভূখন্ড তথা রামগতি-কমলনগরসহ নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বসবাস করেন। এসব ভোটারদের নদীর ওপারে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করাটাই কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে বিচ্ছিন্ন চর হওয়ায় ভোটারও যেতে চান না এসব এলাকায়। বিচ্ছিন্ন চর হওয়াতে প্রার্থী ভোটার সবার মাঝেই আতংক বিরাজ করছে।
জানা যায়,হাতিয়া-সন্দ্বীপ, ভোলা, বরিশালসহ আশপাশের ডাকাত, সন্ত্রাসী, নৌ ডাকাত, বনদস্যু কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এসব এলাকায় স্থাপিত ৮টি কেন্দ্রই (অপর ১টি কেন্দ্র মূল ভুখন্ডের আলেকজান্ডারে অবস্থিত) অধিক ঝূঁকিপুর্ন। ভোটারসহ অনেক মেম্বার প্রার্থীই ভোটের দিন কেন্দ্র এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন কিনা শংকায় আছেন। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে একাধিক প্রার্থী দিনের বেলায় নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করলে রাতে ফিরে আসছেন এ পাড়ে। ইতিমধ্যে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে  বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় মোঃ বেল্লাল হোসেনকে ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে । উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় নির্বাচন কমিশন ইভিএম পরির্বতে ব্যালটে ভোট গ্রহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নানামূখী আতঙ্ক কাটাতে ভোটার-প্রার্থী উভয়েই চাচ্ছেন পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতি । তবেই এ আংতক নির্বাচনী উৎসবে রুপ নিবে বলে ধারনা তাদের।
৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মোঃ মিলাদ হোসেন,  ৫নং ওয়ার্ডের আইউব নবী, ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের (সংরক্ষিত) রাবেয়া বেগম, ৪নং ওয়ার্ডের আবুল খায়ের,৭নং ওয়ার্ডের মোঃ যুবরাজ সহ
আরো কয়েকজন প্রার্থী জানান, ইতিমধ্যে সবগুলো কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ বলে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ একাধিক স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট উপস্থিতির জন্য লিখিত আবেদন করেছি। এমনকি একাধিক কেন্দ্র স্থান্তরের জন্যও আবেদন করেছি।
৭নং ওয়ার্ডের ভোটার মোঃ মিলন জানান, ভোট নিয়ে আতঙ্কে আছি। পরিবেশ দেখে তবেই ভোট দিতে যাবো। মুল ভূখন্ডে বসবাসরত ভোটার মোঃ মনির জানান, গন্ডগোল শংকায় আছি তাই দেখে শুনে এলাকায় যাব ভাবছি। কারন সবার আগে জীবনের নিরাপত্তা।
আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন মঞ্জুর জানান, এখন পর্যন্ত শান্তিপুর্নভাবে প্রচার প্রচারনা চলছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে জন্য প্রসাশনকে সহযোগিতা করছি।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ বেল্লাল হোসেন জানান, সবগুলো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ন। এছাড়াও সরকার দলীয় প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এসব নিয়ে ভোটাররাও আতংকে আছে। আজ ২৫ জুলাই সকাল থেকে এ পাড় থেকে ভোটাররা নৌকা যোগে ও পাড় যাওয়া শুরু করেছে কিন্তু তাদের নৌকা থেকে নামতে দেওয়া হচ্ছেনা। বাবুল, তছলিম, জাকির তাদের মারধর করে ফেরত পাঠাচ্ছে। বিষয়টি আমি ফোনে রামগতি থানা পুলিশসহ সকলকে অবগত করেছি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী হেকমত আলী জানান, ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই। ভোটারদেন নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত লোকবল থাকবে। আমি সকল ভোটারকে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করছি। প্রার্থীদের অভিযোগ বিষয়ে বলেন, বেশ কয়েকটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি এবং সেগুলো সমাধান করার চেষ্টাও করেছি।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, দুর্গম চরাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ন এলাকা হিসেবে চর আবদুল্যাহতে একটি সুষ্ঠু এ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা সবটাই করবো। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে বড়খেড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোঃ হাসান মাকসুদ (নৌকা) আবদুল খালেক মাসুদ (চশমা) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
এছাড়াও সংরক্ষিত ৩ ওয়ার্ডে ১৪ এবং ওয়ার্ডে সাধারন সদস্য পদে ৩১ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
এর আগে গত ৬ জুন রামগতি উপজেলার বড়খেরী এবং চর আবদুল্যা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ জুলাই বড়খেড়ী তে
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) এবং চর আবদুল্যাতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
Facebook Comments Box