রেমিট্যান্স পাঠালেই প্রণোদনা পাবে সবাই: অর্থমন্ত্রী

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গত ১ জুলাই থেকে যারা বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন তাদের প্রত্যেককে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এক্ষেত্রে কোনো ট্যাক্স কাটা হবে না। কেউ ১০০ টাকা রেমিট্যান্স পাঠালে ১০২ টাকা পাবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ট্যাক্স বা সার্ভিস চার্জ কাটা হবে না।

সোমবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ তথ্য জানান। এসময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেটে রেমিট্যান্সের ওপর দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নীতিমালা না হওয়ায় এখনও এটি কার্যকর করতে পারেনি সরকার। আমাদের সিস্টেম আরও আপডেট করতে হবে। এজন্য আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।

সামনে ঈদ, অনেকেই ধারণা করছে এখন দেশে কেউ রেমিট্যান্স পাঠালে তারা প্রণোদনা পাবে না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা কিন্তু ঠিক না। এটা যেহেতু বাজেটে পাস হয়েছে সেহেতু এখন রেমিট্যান্স পাঠালেও দুই শতাংশ প্রণোদনা ছয় মাস পরে হলেও পাবে। এখন পাঠালেও পাবে, পরে পাঠালেও পাবে। অর্থাৎ, জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকেই যারা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে তারাই দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবে। এক্ষেত্রে সিস্টেমটা ডেভেলপমেন্ট করতে আমরা দ্রুত কাজ করে যাচ্ছি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম রেমিট্যান্সে এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হবে। আর এজন্য নতুন বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স পাঠানোয় বাড়তি ব্যয় কমানো এবং বৈধপথে অর্থ পাঠানোয় উৎসাহিত করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের ওপর আগামী অর্থবছর থেকে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। ফলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং হুন্ডি ব্যবসা নিরুৎসাহিত হবে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিমা সুবিধার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট ১ হাজার ৫০৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে, যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। এর আগে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা।

বর্তমানে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

আস/এসআইসু

Facebook Comments