রূপপুর বালিশে কৃষকের কান্না!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনের জন্য কেনা বালিশের মূল্য দেখে বিস্মিত কৃষকসহ সারাদেশের মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে এই নিউজ ভাইরাল হয়ে গেছে। উন্নয়ন কাজে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে মানুষ। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের জন্য ১ হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা!

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শুধু বালিশের বিষয়েই নয়, প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয়ে অসংঙ্গতি পাওয়া গেছে।

এভাবে আরো বেশ কিছু আসবাবপত্রের খরচ দেখানো হয়েছে, যা দেখে অবাক হয়েছেন দেশের মানুষ। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। ’

এদিকে, বালিশের পেছনে এমন অসংঙ্গতিপূর্ণ ব্যয়ের কথা সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। সারা দেশে কৃষকরা যখন ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষকের সন্তানেরা মানববন্ধন করছে তখন এই বালিশ সমাচার তাদের দুঃখকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলছেন, যে দেশে একটি বালিশের দাম ৬ হাজার টাকা এবং তা তুলতে লাগে ৭৫০ টাকা। সে দেশের কৃষকদের তো এমন দুর্গতি হবেই। কারণ তারা যে সরকারি সহায়তা পাওয়ার কথা, তা অসুদুপায়ে নানাভাবে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। সারা বছর জানপ্রাণ দিয়ে খেটে অবশেষে কোনো লাভ জোটে না। আমরা শুধু উচ্চবিত্ত বিত্ত শুধু শহরের মানুষের ভাত জুগিয়ে দিচ্ছি। বিনিময়ে আমরা কী পাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারলে কৃষকসহ সবাই এর সুফল পাবে। কৃষিকাজে সরকারি সহায়তা বাড়ানো যাবে এবং ধানের দরও বাড়ানো যাবে।

টাঙ্গাইলের কৃষক আবদুল মালেক সিকদার জানিয়েছেন, ধান কাটতে একজন শ্রমিককে মজুরি দিতে হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। সঙ্গে তিন বেলা খাবার। অথচ প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। এত কম দামে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের। তাই নিজের পাকা ধানে আগুন লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments