রাজশাহীর অধিকাংশ স্কুলের পাশে বিক্রি হয় তামাকপণ্য

রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বিভাগের ৮৩ শতাংশ স্কুল ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে দেদারসে সিগারেটসহ তামাকপণ্য বিক্রি হচ্ছে। এসব স্কুলের পাশে ক্ষুদ্র মুদির দোকান রয়েছে ৭৭ ভাগ, রাস্তার পাশে তামাকের দোকান ১২ভাগ, কিয়সক ৮ভাগ এবং ভ্রাম্যমান বিক্রেতা পাওয়া গেছে ৩ ভাগ।

‘ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস্’ এর সহায়তায় ‘ঢাকা আহসানিয়া মিশন’ এর নেতৃত্বে এসিডি, ইপসা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং উবিনিগ যৌথভাবে এক জরিপে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এই গবেষণাটি বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাতে একসাথে পরিচালিত হয়। রবিবার রাজশাহীর উন্নয়ন সংস্থা ‘এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফলে বলা হয়, রাজশাহী বিভাগে ৮৬ ভাগ তামাকপণ্যের দোকানে শিশুদের দৃষ্টি সমান্তরালে (আনুমানিক ১ মিটার) তামাকজাত দ্রব্যের প্রদশির্ত হচ্ছে। চকোলেট এবং খেলনার পাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে দেখা যায় ৮৬ভাগ তামাকপণ্যের দোকানে।

রাজশাহী বিভাগের স্কুল ও খেলার মাঠের পাশে ৮৫ভাগ তামাকপণ্যের দোকানে তামাকের বিজ্ঞাপন পরিলক্ষিত হয়েছে।এর মধ্যে ৫২ শতাংশ তামাকপণ্যের দোকানে স্টিকার/ডামি প্যাকেট/ফেস্টুন/ফ্লায়ারস এর বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। পোস্টারের মাধ্যমে ৪৭ভাগ তামাকপণ্যের দোকানে বিজ্ঞাপন দৃশ্যমান।

তামাক ক্রয়ে অনুপ্রেরণা জোগাতে ৫৮ভাগ তামাকপণ্যের দোকানে বিনামূল্যে নমুনা, ৩৯ ভাগ তামাকপণ্যের দোকানে পুরস্কার-প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের ৯৭ভাগ দোকানে একক শলাকা সিগারেট বিক্রি হয় বলে গবেষণার ফলাফলে দেখানো হয়েছে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়রকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশে থেকে তামাকপণ্যের বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার উপ-পরিচালক ড. শরমীন ফেরদৌস চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও এসিডির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপডক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল, রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. কামরুল হাসান।

গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন এসিডির এডভোকেসি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম শামীম। আলোচনা সভায় এসিডি’র পক্ষ থেকে শিশু, কিশোর ও যুবসমাজকে তামাক ও ধূমপানে আসক্ত করা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে তামাক কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন কূট-কৌশল বন্ধে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments