রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট

আলোকিত সকাল ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট ভোটের আগের যতোটা তৎপর ছিল, ভোটের পর তাদের সেভাবে সক্রিয় দেখা যায়নি। অনিয়মের অভিযোগ এনে ৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানালেও গত পাঁচ মাসে দাবি আদায়ে রাজপথে দেখা যায়নি এই জোটকে। বরং নির্বাচিত আট সংসদ সদস্যের সংসদে যোগ দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে এক ধরনের টানাপড়েন সৃষ্টি হয় বিএনপিপ্রধান এই জোটে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে এক মাসের আল্টিমেটামও দেন জোটের অন্যতম শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। অন্যথায় জোট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেন তিনি। তার সেই আল্টিমেটামের সময় শেষ রোববার।

এ পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। রোববার সন্ধ্যায় তার মতিঝিল কার্যালয়ে জোটের শরিক দলের নেতারা একদফা বসবেন। তবে এটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক বৈঠক’ বলে দাবি করছে জোট। সোমবার জেএসসি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে পুনর্নির্বাচন দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি চুড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মসূচি না থাকা এবং বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যদের সংসদে যোগদান নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার অবসানেই স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। এ বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোটের শরিকদের মধ্যে নানা ইস্যুতে সৃষ্ট সংকট, দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করা হবে। জোট ত্যাগে আলটিমেটাম দেয়া কাদের সিদ্দিকীকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হবে। আলোচনা হতে পারে নতুন কর্মসূচি নিয়েও।

ঈদের পর দিন এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন জানান, ঐক্যফ্রন্ট ভাঙছে না, জোটের পরিধি আরও বাড়বে। পাশাপাশি রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন। সেই প্রস্তুতি হিসেবে সোমবারের বৈঠক বলে জানিয়েছেন জোট সংশ্লিষ্ট নেতাদের। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিগত দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box