রাজধানীজুড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন ১০ রোগী। গত ১১ দিনে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ১০৮ জন ভর্তি হয়েছেন। ফলে এরই মধ্যে রাজধানীবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি জুন মাসে কারও মৃত্যু না হলেও গেল এপ্রিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের তথ্যানুযায়ী, এপ্রিল-অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে ডেঙ্গুজ্বরের মৌসুম ধরা হয়। এখন পর্যন্ত রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১৩ জন। আর ১-১১ জুন পর্যন্ত ১০৮ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ৩৭ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ করছে। আগাম বৃষ্টির কারণে এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ একটি বেশি হতে পারে। তাই মশা নিধনে আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এ ছাড়া ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

এ মৌসুমে জ্বর বা শরীরে ব্যথা হলে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রাখতে হবে। আক্রান্ত রোগীর যখন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের লক্ষণ (যেমন-মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ, মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি) দেখা দেয়, তখনই একে হেমোরেজিক ডেঙ্গু বলা হয়। অধিক রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের জলীয় উপাদান কমে যায়। এ বছর হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীই বেশি পাওয়া যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু হলে রোগীর জ্বরের পরিমাণ বেশি হয় এবং গায়ে রেশ ওঠে। তবে এ বছর কম জ্বর এবং গায়ে রেশ ওঠেনি এমন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেকেই সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসকের কাছে যান। এতে রোগী সিরিয়াস অবস্থায় চলে যাচ্ছে, যাদের বাঁচানোই কষ্টকর। কারও যদি ৪ থেকে ৫ দিন জ্বর থাকে, তখন অবশ্যই চিকিৎকসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিশ্রামে রাখতে হয়। এর পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ পানি, শরবত ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য কেবল প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে।’

Facebook Comments Box