রং নাম্বারে পরিচয়, প্রেম, অতঃপর…

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বরিশাল নদীবন্দরে নোঙর করা এমভি সুরভী-৮ লঞ্চের নিচতলার স্টাফ কেবিন থেকে শনিবার (২০ জুলাই) সকালে আঁখি আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় রোববার (২১ জুলাই) দিনগত রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা থেকে সুমন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে।

সুমনের দেয়া তথ্য মতে, রং নাম্বারে পরিচয়, তারপর প্রেম, অতঃপর বিবাহবহির্ভূত দৈহিক সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় গার্মেন্টসকর্মী আঁখি আক্তারকে (শারমিন)।

সোমবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টায় বরিশাল নগরের রূপাতলীতে অবস্থিত র‌্যাব-৮ এর সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-অধিনায়ক মেজর খান স‌জিবুল ইসলাম বলেন, আটক যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি আরও জানান, রং নাম্বারের সূত্র ধরে আঁখির সঙ্গে সুমনের পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দিনগত রাতে সদরঘাট থেকে এমভি সুরভী-৮ লঞ্চে করে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয় আঁখি ও সুমন। এসময় সুমন লঞ্চের স্টাফদের একটি কেবিন ৬’শ টাকায় ভাড়া নেয়।

এরপর রাত ১১টার দিকে সুমন আঁখিকে কুপ্রস্তাব দেয়। কিন্তু আঁখি বিবাহবহির্ভূত দৈহিক সম্পর্কে রাজি না হলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সুমন। শনিবার সকালে লঞ্চ বরিশাল নদীবন্দরে পৌঁছালে আঁখির মরদেহ ওই স্টাফ কেবিনে ফেলে পালিয়ে যায় সুমন।

পরে লঞ্চের স্টাফরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে তারা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর স্বজনদের খবর দিলে তারা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, এ ঘটনা জানার পর তদন্তে নামে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় রোববার দিনগত রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা থেকে সুমনকে আটক করা হয়।

আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সুমন। আখির আরেক এক নাম শারমিন তাও জানিয়েছেন সুমন।

আটক সুমন ভান্ডারিয়া উপজেলার নকবুল্লা সিপাহীপাড়া এলাকার মানিক সিপাহীর ছেলে। তিনি সদরঘাটের ১নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকার ফল ব্যবসায়ী।

আখি আক্তার ওরফে শারমিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী নগরের আদমজী ইপিজেডের একটি গার্মেন্টসের অপারেটর। তিনি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রিশিবপুরের বড়পুইয়াউটা এলাকার বজলু বেপারীর মেয়ে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments