যুক্তরাজ্যের পথে ট্রাম্প

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে সোমবার (৩ জুন) যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান বিতর্কের মধ্যেই স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ও পাঁচ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় তার লন্ডন পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যদিও মার্কিন এই প্রেসিডেন্টের এবারের সফরকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র আমন্ত্রণে এক রাষ্ট্রীয় সফরে (ওয়ার্কিং ভিজিট) লন্ডনে যান ট্রাম্প-মেলানিয়া। তবে সে বারও তাকে ব্যাপক বিক্ষোভের সম্মুখীন হতে হয়। যার অংশ হিসেবে এবারও ট্রাম্পের এই সফরকে কেন্দ্র করে আরও বড় বিক্ষোভের আয়োজন করা হচ্ছে বলে দাবি বিশ্লেষকদের। তবে দেশ ব্যাপী নানা বিতর্ক সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বরণ করে নিতে ব্যস্ত বাকিংহাম প্রসাদ। এবার ট্রাম্প পরিবারের সকলেরই রাজপ্রাসাদে থাকার কথা রয়েছে।

এ দিকে সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প দম্পতির জন্য বাকিংহাম প্যালেসে এক রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করেছেন রানি এলিজাবেথ। তাছাড়া সেন্ট জেমস প্রাসাদে আয়োজিত ব্যবসায়ীদের এক সভায় অংশ গ্রহণের কথা রয়েছে তার। পরবর্তীতে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে সদ্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে বৈঠক এবং রাজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ‘ডি-ডে’র ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। এর পাশাপাশি লন্ডনের মার্কিন দূতাবাসে প্রেসিডেন্টের সম্মানে আয়োজন করা হবে এক নৈশ ভোজ। একইসঙ্গে বাকিংহাম প্রাসাদের লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং ব্রিটিশ রানীর আয়োজনে রাষ্ট্রীয় ভোজসভা তো রয়েছেই।

এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ব্রিটেন সফরে যাচ্ছেন। যা যেকোনো বিদেশি রাষ্ট্র প্রধানের কাছে এক বিরল সম্মানের একটি বিষয়। মূলত এ কারণেই দেশটিতে ঘটেছে বিপত্তি। ট্রাম্পের এই সফরকে নস্যাৎ করতে এবার গোটা যুক্তরাজ্য জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি চালাচ্ছে বিরোধী দলগুলো। লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বেলফাস্ট, বার্মিংহাম ও নটিংহামসহ নানা শহরে এই সমাবেশগুলো আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিকদের প্রশ্ন, যিনি কখনই শিষ্টাচারকে তোয়াক্কা করেন না, বেফাঁস মন্তব্যসহ বর্ণবাদী ও নারী বিদ্বেষী আচরণের কারণে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত; এমন বিতর্কিত এক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি বানানোর কী প্রয়োজন আছে? এবার যাতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ছাড়া বিরোধী প্রায় সবকয়টি দলের নেতারা এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরের তীব্র সমালোচনা করছেন।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই লন্ডন সফরের নিন্দা জানিয়ে ব্রিটিশ লেবার পার্টির ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমিলি থর্নব্যারি বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’কে বলেছেন, ‘আমাদের এই দুই দেশের যৌথ মূল্যবোধকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পদ্ধতিগতভাবে আক্রমণ করে চলেছেন। যা অবশ্যই প্রতিহত করা হবে।’

তাছাড়া বর্ণবাদী ও নারী বিদ্বেষী আচরণের জন্য এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন ব্রিটেনের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন। এমনকি তিনি ট্রাম্পের সম্মানে বাকিংহাম প্রাসাদে রানীর আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাছাড়া লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ভিন্স ক্যাবলও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো ভোজ সভায় অংশ গ্রহণ করবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

অপর দিকে যুক্তরাজ্য সফরকে সামনে রেখে ‘দ্য সান’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‌‘পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি বরিস জনসনকে সমর্থন দিচ্ছেন। তাছাড়া ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছিন্ন হওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় আলোচনায় ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নিজেল ফারেজেরও অবিলম্বে অংশগ্রহণ করা উচিৎ।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box