যানবাহনের সিলিন্ডার পরীক্ষাগার নেই বিআরটিএর

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সিএনজি চালিত যানবাহনে ব্যবহৃত সিলিন্ডার ঠিক মতো পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না কিংবা মেয়াদ উত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির নেই সিলিন্ডার পরীক্ষা করার মতো সিএনজি কনভারশন ও টেস্টিং ওয়ার্কশপ। যে কারণে বাইরের প্রতিষ্ঠানে যানবাহনের মালিকদেরই স্ব-উদ্যোগে সিলিন্ডার পরীক্ষা করাতে হয়।

বিস্ফোরক অধিদফতর ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, যানবাহনে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবহৃত সিলিন্ডারে ত্রুটি তৈরি হলে কিংবা নির্ধারণ করা মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় ঘটছে হতাহতের ঘটনা। প্রতিনিয়ত দেশের কোথাও না কোথাও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে মারা যাচ্ছে মানুষ।

২০০৫ সালের সিএনজি বিধিমালা অনুযায়ী, ৫ বছর পরপর সিএনজিচালিত যানবাহনের সিলিন্ডার পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। যানবাহনে পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে নতুন সিলিন্ডার বসাতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের মে পর্যন্ত সিএনজিচালিত যানবাহন ছিল ৫ লাখ তিন হাজার ১৩১টি। এরমধ্যে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫০৬টি যানবাহন সিএনজি ব্যবহারের জন্য রূপান্তরিত। এক লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি অটোরিকশা এবং ৪০ হাজার ৩৮৩টি বাহন গ্যাসচালিত বাহন হিসেবে আমদানি করা হয়েছে।

বিআরটিএ’র দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিন লাখ ৪২ হাজার ৮৮৯টি সিএনজিচালিত যানবাহন নিবন্ধিত হয়। সে হিসেব অনুযায়ী সেসব যানবাহনের সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষা করার কথা গত জুন মাসের মধ্যে। তবে সেটা হয়নি। দুই লাখ ৫৩ হাজার ৪৭৯টি বাহনের সিলিন্ডার পরীক্ষা করা হয়নি বলে জানান আরপিজিসিএল এর ওই কর্মকর্তা।

বিস্ফোরক অধিদফতরের কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার সময় নিয়মিত যে সংকোচন-প্রসারণ হয়, তার ফলে সিলিন্ডারের সহনীয়তার মাত্রা কমে যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ডেন্টিং-পেইন্টিং নষ্ট হয়ে সিলিন্ডারে ক্ষয় হয় ও পুরুত্ব কমে ভাল্বের কার্যক্ষমতা কমে আসে। যে কারণে ঘটে দুর্ঘটনা।

সম্প্রতি নোয়াখালীতে একটি অটোরিকশার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজন মারা যান। মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে চলতি বছরের ১৭ মে টাঙ্গাইলে তিনজনের মৃত্যু ঘটে। সর্বশেষ গত বছর নভেম্বরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে একটি পিকআপভ্যানের (ঢাকা-মেট্রো-ন-১৫-৪০০০) সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পিকআপটির পেছনের অংশ উড়ে যায়। বিস্ফোরণে আশপাশের যানবাহনে থাকা ৮ জন দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

বিস্ফোরক অধিদফতরের প্রধান পরিদর্শক সামসুল আলম বলেন, সকল ধরনের গ্যাসের সিলিন্ডারের রিটেস্টের অনুমোদন দিয়ে থাকে বিস্ফোরক অধিদফতর। কিন্তু রিটেস্ট করতে যেতে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে। সরকারের রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) সহ ৪/৫টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও সিএনজি কনভারশন ও রিটেস্টিং করে থাকে।

তিনি বলেন, অনুমোদন আমরা দিলেও দেখভাল ও পুনঃপরীক্ষার দায় আমাদের ওপর নেই। সে দায়িত্ব বিআরটিএ’র ওপর। কিন্তু তাদের আবার নিজস্ব রিটেস্টিং সেন্টার নেই। যে কারণে যেতে হয় অন্য প্রতিষ্ঠানে। প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতেই গ্যাস সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা পরীক্ষা করে। মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটিএ যখন যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করে তখন এটা দেখার কথা।

বিআরটিএ এর ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম বলেন, সিলিন্ডারের মেয়াদ পেরিয়েছে কি না, কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না তা দেখার মতো যন্ত্র কিংবা টেস্টিং সেন্টার আমাদের নেই। তবে আরপিজিসিএল অনুমোদিত সিএনজি সিলিন্ডার টেস্টিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্যাস সিলিন্ডার পরীক্ষা করে তা ব্যবহারের উপযুক্ত কি না তা নিশ্চিত হয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়া হয়। ফিটনেস নবায়নে সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষার সনদ দেখার জন্য আদেশ জারি করে প্রতিটি কার্যালয়ে চিঠি দেয়ার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে সম্প্রতি সিলিন্ডার রিটেস্টিং সনদের স্টিকার না থাকলে গ্যাস না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box