যানজটের সুড়ঙ্গের ওপারে আলোর রেখা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

যানজট অবস্থা এখন দৃশ্যমান। এক দল বিদেশি বিনিয়োগকারী গুলশান থেকে মতিঝিল যাবে বলে গাড়িতে উঠেছে সকাল ১০টায়। তাদের ধারণা ছিল, খুব দ্রুত সময়ে পৌঁছে যাবে। কিন্তু তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় নিয়েছে প্রায় দেড় ঘণ্টা। তারা অনেকে বিরক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে অবাক হয়েছেন। এর মূল কারণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া। এভাবে সবার কাছে যানজট এখন প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে ওঠেছে। তবে অনেকের ধারণা, ভিআইপিদের তেমন যানজট পোহাতে হয় না। এ কারণে যানজট তাদের কাছে দৃশ্যমান হচ্ছে না। তবে সরকারের শীর্ষমহল এ যানজট নিরসনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তা এখন ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে।

যানজট নিরসনে সরকার কাজ করছে এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গত ১০ বছরে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে মেট্রোরেল। যেখানে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর বিআরটি প্রকল্পে ২ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। রেলপথ মন্ত্রণালয় ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্প। যেখানে ব্যয় হচ্ছে ৩৭৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয়ের পূর্বাচল লিংক রোডের পাশে খাল খনন ও সড়ক উন্নয়ন। যেখানে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। হাতিরঝিল সমন্বিত প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি উত্তরা লেক উন্নয়ন ও বালু নদ থেকে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ। যেখানে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের সড়ক উন্নয়ন নর্দমা ও ফুটপাথ নির্মাণ। যেখানে ব্যয় হবে ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। কালশী ফ্লাইওভার ৬১২ কোটি টাকা। আর মিরপুর দারুস সালাম সড়ক নির্মাণ। যেখানে ব্যয় হবে ৪৮ কোটি টাকা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তুলে এসব প্রকল্প ব্যয়ের একটি হিসাব তুলে ধরেন। এসব প্রকল্পের বিনিয়োগের পরিমাণ ৪২ হাজার ৯০ কোটি টাকা। গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, মাদানি অ্যাভিনিউ পূর্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য অর্থাৎ প্রগতি সরণির ইন্টারসেকশন থেকে বালু নদী পর্যন্ত। এতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৪২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেগুনবাড়ী খালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প। পূর্বাচল লিংক রোডের দুই দিকে অর্থাৎ কুড়িল থেকে বোয়ালিয়া পর্যন্ত ১০০ ফুট প্রশস্ত খাল খনন। এর জন্য ব্যয় হবে ১০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা।

রাজধানীতে যানজট নিরসনের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সাত রাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত ১১টি ইউলুপ। যেখানে বিনিয়োগ হবে ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বিমানবন্দর থেকে মিরপুর সড়ক উন্নয়নে ১৪৬ কোটি টাকা। মিরপুর ১০নং থেকে কচুক্ষেত পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করা ও উন্নয়নের জন্য ব্যয় হবে ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। মিরপুর গ্রামীণ ব্যাংক থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ ২৪০ কোটি টাকা।

ঢাকার যানজটের জন্য সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রকল্প হচ্ছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। মাত্র দুটি প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকায় হচ্ছে উত্তরা থেকে মতিঝিল মেট্রোরেল। এর পাশাপাশি গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য আলাদা লেন। এর জন্য ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৩ কোটি টাকা।

ঢাকার যানজটে অংশ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। যে কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মিটার গেজ রেলপথের সমান্তরাল আরও একটি ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন করতে যাচ্ছে। এ কাজের প্রায় অর্ধেক হয়েছে বলে জানা গেছে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ঢাকা জয়দেবপুর সেকশনে আন্ডারপাস ও ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments