ময়মনসিংহে নিখোঁজ জমজ ০৩ কন্যা উদ্ধার সহ গ্রেফতার ০৬

বদরুল আমিন

ময়মনসিংহের ফুলপুর থানাধীন ভাইটকান্দি দক্ষিণ পাড়া আঃ রহমানের নিজ বাড়ী হতে গত ১৫ জুন জমজ তিন বোন আবিদা সুলতানা পপি (১৫), শাহানা সুলতানা সুমা (১৫) ও রেজিয়া সুলতানা চম্পা (১৫) নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানিয়েছে। ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন করায় জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার ইনচার্জ শাহ মোঃ কামাল আকন্দ ও থানা পুলিশের সফল অভিযান বলে দাবী করা হয়। বাদী পক্ষ পুলিশের ভুমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, পারিবারিক শাসনে তারা তাদের পূর্ব পরিচিত প্রেমিকের পরামর্শ মতে তারা তাদের সাথে পালিয়ে যায়। এব্যাপারে মেয়েদের চাচা থানায় জিডি করেন। এর পর পুলিশ ভিকটিম আবিদা সুলতানা পপিকে নকলা থেকে উদ্ধার করেন। পরে ১৯ জুন ০২ জন চম্পা ও সুমাকে উদ্ধার করা হয়। ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথ কাজ করেন।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের চাচা আঃ ছালাম ফুলপুর থানায় নিখোঁজ সংবাদ দিলে ফুলপুর থানার জিডি নং-৫৪৯ তারিখ-১৫/০৬/১৯ ইং ডায়রীভুক্ত হয়। উক্ত ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে অনুসন্ধান পূর্বক ভিকটিম উদ্ধারের জন্য থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখাকে পুলিশ সুপার এর নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ইং ১৫/০৬/১৯ তারিখ হতে ফুলপুর সার্কেলের নেতৃত্বে থানা এবং ডিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিম উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় নিখোঁজ তিন বোনের মধ্যে আবিদা সুলতানা পপিকে শেরপুর জেলার নকলা হতে ইং ১৭/০৬/১৯ অপরাহ্নে উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়, তাদের তিন বোনকে ১৫/০৬/১৯ ইং তারিখ ভোর ০৫.০০ ঘটিকার সময় নিজ বাড়ী হতে শেরপুর জেলার কয়েকজন ছেলে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানাধীন অজ্ঞাতস্থানে এক বাড়ীতে আটক রাখে। ভিকটিমের বাবা অপহরনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ফুলপুর থানায় ০৯ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে, ফুলপুর থানার মামলা নং-২৬, তারিখ১৮/০৬/১৯ ইং, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ৭/৩০ রুজু হয়। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইং ১৮/০৬/১৯ তারিখ ঘটনায় জড়িত সুলতান মাহমুদ ও মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করে।

উক্ত মামলার সূত্র ধরে থানা ও ডিবি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ইং ১৮/০৬/১৯ তারিখ এজাহার নামীয় অন্যতম আসামী মোমেন এবং সুরাইয়া রাহা কে ঢাকা হতে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইং ১৯/০৬/১৯ তারিখ ভোর রাতে ঘটনায় জড়িত এজাহার নামীয় আসামী মুন্না এবং জুয়েলকে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী নকশী বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করে এবং তাদের হেফাজতে থাকা নিখোঁজ অপর দুই ভিকটিম চম্পা ও সুমাকে উদ্ধার করে। ভিকটিমদেরকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য প্রেরনে করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামী-মুন্না মিয়া (১৯), পিতা-গোলাম মোস্তফা, সাং-তিলকান্দি, থানা-ঝিনাইগাতী, মাসুদ রানা (১৯), পিতা-মনির মিয়া ওরফে মুনির উস্তাগার, সাং-নওহাটা, থানা-সদর, সুলতান মাহমুদ সবুজ (৩০), পিতা-আজিজুল হক, সাং-জুলগাঁও, থানা-ঝিনাইগাতী, মোমেন মিয়া (২৫), পিতা-গোলাম মোস্তফা, সুরাইয়া রাহা (১৮), স্বামী-মোমেন মিয়া, উভয় সাং-তিলকান্দি, থানা-ঝিনাইগাতী জুয়েল মিয়া (২৬), পিতা-আঃ করিম, সাং-নওহাটা, বর্তমান সাং-শশুরবাড়ী নকশী বাজার, থানা-ঝিনাইগাতী, সর্ব জেলা-শেরপুর।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box