ময়মনসিংহের এিশাল উপজেলায় শিক্ষকদের হাজিরায় বায়োমেট্রিক মেশিন অগ্রিম ভাউচারে ৩৯ লাখ টাকা লোপাট

সারুয়ার হাসান সজিব

ময়মনসিংহের এিশালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক মেশিন কিনতে মেশিনসহ অন্যান্য মালামাল সরবরাহ ছাড়াই অগ্রিম ভাউচার নিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। এমনকি বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরকারের বরাদ্দ দেয়া অর্থ থেকে কমিশন ও মালামাল কেনার ঠিকাদারীও নিয়েছে। অথচ এসব কাজে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

জানা গেছে, বায়েমেট্রিক মেশিন, ক্যাপ, ড্রেস, হোয়াইট বোর্ড, প্রয়োজনীয় বই কেনার জন্য উপজেলার ৭৩টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্ধারিত দোকানের ৪১ হাজার একশ টাকা, ১০৭টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ৫১ হাজার একশ টাকার অগ্রিম ভাউচার জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় উপজেলা শিক্ষা অফিস। এসব বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটি না থাকায় সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তারা প্রধান শিক্ষকদের বার বার ফোনে টাকা তুলে জমা দিয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধান শিক্ষকরা জানান, মেশিনসহ অন্যান্য জিনিস কে কিনবে, কত টাকায় কিনবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষকদের কয়েকজন জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অগ্রিম ভাউচার জমা দেয়ার বিষয়ে শুরুতে কয়েকজন প্রতিবাদ করলেও চাপের মুখে ভাউচার জমা দিতে বাধ্য হন তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ’র কাছে আসা একটি ক্যাশ মেমো থেকে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরার ‘ইনোসফ্ট ভ্যালি লিমিটেড’ নামের একটি দোকানের ভাউচারে ত্রিশালের ১৮২টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। এ ভাউচারে (Bio-metric machine with software installation, connecting materials, training & other services Purpose) ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনা ও বাস্তবায়ন এবং টাকার পরিমাণের ঘরে ২৫ হাজার টাকা লিখে প্রধান শিক্ষকরা স্বাক্ষর দিয়েছেন। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি মেশিন কেনা, সফটওয়্যার আপডেট ও ইন্সটলেশনে খরচ হয় মাত্র ১৫ হাজার টাকা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, বায়োমেট্রিক মেশিন ক্রয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল, পরে তা স্থগিত করা হয়েছে। আবার নির্দেশনা এলে বিদ্যালয়গুলোর এসব কাজ বাস্তবায়ন করবে এসএমসি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, অগ্রিম ভাউচার জমা নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অগ্রিম ভাউচারে টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা না দিলে বরাদ্দই বাতিল হয়ে যাবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments