মোসাদ্দেকের ফিফটি নিয়ে মিডিয়ায় বিভ্রান্তি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ডাবলিনের মালাহাইডে প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের বিজয়ের দিনে জয়ের নায়ক মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরির তথ্য নিয়ে বিশাল বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
ম্যাচ চলাকালীন স্ক্রলে প্রদর্শিত মোসাদ্দেকের ইনিংস (হাইলাইট হতে সংগৃহিত)

ফাইনাল জয়ের মূল নায়ক ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ব্যাট হাতে তার করা ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে জয়ের বন্দরে নোঙর করে বাংলাদেশ। তবে তার খেলা ইনিংস নিয়ে দেশ-বিদেশের প্রকাশ করা বিভিন্ন গণমাধ্যম ভুল তথ্য উপস্থাপন করে পাঠকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে জনপ্রিয় ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএস ক্রিকইনফো পর্যন্ত ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সবার মাঝে দ্বিধার সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে।

ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো বলছে, মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়েছে ২০ বলে আর ম্যাচ শেষে তিনি অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ৫২ রানে। ক্রিকইনফো একটি গ্রাফিক্সের মাধ্যমেও ভুল তথ্য পরিবেশন করেছে। ওই গ্রাফিক্সে মোসাদ্দেকের স্কোর দেখানো হয়েছে এভাবে – ১১০৪১০৬১১১১১৬১১৬৬৪৬২।

অর্থাৎ ২০ বলের মাঝে মোসাদ্দেক মোট দুটি ডট বল খেলেছেন। সিঙ্গেল নিয়েছেন ১০টি। ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৫টি এবং চার মেরেছেন দুটি। আর ২০তম বলে ডাবল নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজও তাদের স্কোরকার্ডে দেখাচ্ছে মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়েছে ২০ বলেই।

এর মধ্যে প্রথম দুই বলে দুটি সিঙ্গেল নেওয়ার পর একটা ডট খেলেছেন মোসাদ্দেক। চতুর্থ বলটি সীমানা ছাড়া করেছেন। এটা ছিল ইনিংসের ১৭তম ওভারে। পরের ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহ সিঙ্গেল নিলে স্ট্রাইকে যান মোসাদ্দেক। এই ওভারে টানা তিনটি বল ডট দেন তিনি। যদিও ওই গ্রাফিক্সে দেখানো হচ্ছে একটি সিঙ্গেল ও একটি ডট দিয়েছেন তিনি।

এই ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নেন মোসাদ্দেক। যদিও গ্রাফিক্স বলছে, ওই বলে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। টিভি পর্দায় দেখা যাচ্ছে এই ওভার শেষে মোসাদ্দেক ৮ বলে ৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ফলে মোসাদ্দেকের প্রথম ৮ বলের গ্রাফিক্স হবে এরকম ১১০৪০০০১। কিন্তু ক্রিকইনফো বলছে ১১০৪১০৬১!

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার, ক্রিকইনফোসহ ক্রিকেট বিষয়ক সব ওয়েবসাইটের বল বাই বল আপডেটে লেখা, ১৮ তম ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহ সিঙ্গেল নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে মোসাদ্দেক সিঙ্গেল নিয়েছেন এবং পরের তিন বল মাহমুদউল্লাহ ডট দিয়েছেন।

অথচ টিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ১৮তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ বল ডট দেওয়ার পর পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়েছেন মোসাদ্দেক। ষষ্ঠ বলে আবার সিঙ্গেল নেন মাহমুদউল্লাহ। ১৮তম ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৫৫। মোসাদ্দেক ৮ বলে ৭ ও মাহমুদউল্লাহ ৮ বলে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

কিন্তু ইএসপিএন ১৮তম ওভার শেষে স্কোরকার্ডে দেখাচ্ছে মোসাদ্দেক ৫ বলে ৭ ও মাহমুদউল্লাহ ১১ বলে ৬ রান করেছেন। অর্থাৎ মোসাদ্দেকের খেলা তিন বল মাহমুদউল্লাহর নামে যোগ হয়েছে। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আবারও স্ট্রাইক পান মোসাদ্দেক। ওই বলটি ডট দেন তিনি। তৃতীয় বলেই ছক্কা হাঁকান তিনি। পরের বলে সিঙ্গেল নেন।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর গ্রাফিক্স অনুযায়ী প্রথম চার বল ঠিক। এরপর তিনটি বল ডট যা ইএসপিএনের গ্রাফিক্স ও স্কোরকার্ডে নেই। পরের অংশটুকু আবার ঠিক আছে। অর্থাৎ বল বাই বল বিশ্লেষণ করলে মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরি দাঁড়াবে – ১১০৪০০০১০৬১১১১১৬১১৬৬৪৬২। সেক্ষেত্রে মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরি হয়েছে ২৩ বলে।

মোসাদ্দেক বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির মালিক। ২০০৫ সালে নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা আশরাফুলের ২১ বলে হাফ সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশের ওয়ানডেতে দ্রুততম। দ্বিতীয় রেকর্ডটির মালিক আব্দুর রাজ্জাক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনিও ২১ বলে পূর্ণ করেন হাফ সেঞ্চুরি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments