মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সক্রিয় হিসাব কমেছে ৩৩ লাখ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সক্রিয় গ্রাহক কমে যাচ্ছে। গত এপ্রিল মাসেই প্রায় ৩৩ লাখ সক্রিয় হিসাব (গ্রাহক) কমেছে। ওই মাসে মোবাইলের সক্রিয় হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি ৯১ লাখ। মার্চ মাসে এর সংখ্যা ছিল তিন কোটি ২৪ লাখ। কমার হার প্রায় প্রায় ১০ শতাংশ। তবে সক্রিয় গ্রাহক কমলেও এ মাসে দৈনিক লেনদেন বেড়েছে প্রায় সোয়া ৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দ্রুততম সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা পাঠানোর অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম এখন মোবাইল ব্যাংকিং। এ সেবা ব্যবহার করেই মানুষ এখন পরিবার-পরিজন ও নিকটাত্মীয়ের কাছে বেশি টাকা পাঠাচ্ছে। শুধু টাকা পাঠানোই নয়, বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি বিল, জাতীয় পরিচয়পত্রের নবায়ন ফি, পাসপোর্টের ফি, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ভর্তি ফি ও বেতন প্রদান, ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা, ভিসা প্রদানসহ অনেক ধরনের ফি প্রদানের সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। এতে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এ সেবা এবং প্রতিদিনই গ্রাহকের সংখ্যা ও লেনদেন বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত এপ্রিল শেষে মোবাইল ব্যাংকিয়ে মোট গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ৮২ লাখ ৮২ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার। সেই হিসাবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তিন কোটি ৮৫ লাখ বা ৫৭ শতাংশ হিসাবই বর্তমানে নিষ্ক্রিয়। সাধারণ নিয়মে টানা তিন মাসে একবারও লেনদেন হয়নি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করা হয়। আগের মাস মার্চে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাব সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে নতুন গ্রাহক বেড়েছে প্রায় সাত লাখ বা ১.১ শতাংশ। তবে নতুন গ্রাহক বাড়লেও সক্রিয় গ্রাহক কমেছে প্রায় ৩৩ লাখ।

এ বিষয়ে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে কোনো হিসাবে টানা তিন মাসে একবারও লেনদেন না হলে সেটিকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে তিন মাস লেনদেন না হলেই হিসাবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিন মাসের এক দিন পরও যদি লেনদেন হয় তবে সেটি আবার সক্রিয় হিসাব বলে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, সক্রিয় হিসাব কমা মানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমছে, তা নয়। সেটি হলে লেনদেন কমার কথা ছিল। কিন্তু লেনদেন প্রতি মাসেই বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, এপ্রিলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক এক হাজার ১৬৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের মাসে যা ছিল এক হাজার ১১৮ কোটি টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৪.২ শতাংশ। এ মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় ক্যাশ ইন লেনদেন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। যা আগের মাসে ছিল ১৩ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। ক্যাশ আউট লেনদেন হয়েছে ১৩ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। মার্চ মাসে যা ছিল ১৩ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া এপ্রিলে ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩৬৫ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৫৪৪ কোটি টাকা। সরকারি বেতন-ভাতা পরিশোধ হয়েছে ২০৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া এপ্রিলে অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৫৪০ কোটি টাকা। ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box