মোবাইল, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয়

84

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সব সময় সঙ্গেই রাখেন সবাই। যেমন- মোবাইল, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি। যা সব সময় সঙ্গে রাখা প্রয়োজন হয়। তবে ভুলবশত যদি আপনার মোবাইল কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে ফেলেন তবে উপায়!

তখন নিশ্চয় নিজেকে খুব অসহায় লাগে! অতএব, স্মার্টফোন কিংবা স্মার্টকার্ডটি কোনো ভাবে হারিয়ে গেলে বা খুঁজে না পেলে তৎক্ষণাৎ কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা জেনে রাখা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই এমন বিপদে কী করবেন ভেবে পাওয়া যায় না। তাই আগে থেকে সতর্ক হলে বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগানো সম্ভব।

তবে সঠিক পদ্ধতিতে সন্ধান করলে ফিরে পেতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় মোবাইল, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডটি। চলুন জেনে নেয়া যাক করণীয়-

মোবাইল হারিয়ে গেলে করণীয়

অ্যান্ড্রয়েড হোক কিংবা আইওএস, এখন স্মার্টফোন হারালে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। কারণ প্রায় প্রতিটি আধুনিক ফোনেই সিকিয়োরিটি এবং ট্র্যাকারের বন্দোবস্ত করা সম্ভব। ফোন হারালে সেই মারফত তার সন্ধান পাওয়া খুব দুষ্কর নয়। তার জন্যেও আগে থেকে কয়েকটি সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

> অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে নামী কয়েকটি ব্র্যান্ড এবং আইফোনে নিজস্ব সিকিয়োরিটির ব্যবস্থা থাকে। যদি ঠিক মতো নিজের অ্যাকাউন্টটি ট্র্যাকে রাখেন, তা হলে সহজে সুরাহা সম্ভব।

> হারিয়ে যাওয়া ফোনে যদি রিং না হয় কিংবা ডেড টোন আসে, তা হলে বুঝতে হবে, হয় ব্যাটারি ড্রেনড হয়েছে অথবা ফোনটি চুরি গিয়েছে। সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হোন।

> চুরি হওয়া ফোনের ক্ষেত্রে প্রথমেই স্থানীয় থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি করুন। ফোনের জিপিএস ট্র্যাকার অন থাকলে সাইবার ক্রাইম বিভাগের থেকে ফোনটি ট্র্যাক করার ক্ষেত্রে সাহায্য পেতে পারেন। ব্যক্তিগত তথ্য, যা অন্য কারো জানা সম্ভব নয়, তা দিয়ে লক স্ক্রিন মেসেজ সেট করে রাখতে পারেন।

> গুগলে অ্যাকাউন্ট থাকলে ফোনে থাকা কনট্যাক্ট, ছবি বা ডেটা সবই উদ্ধার করে ফেলা সম্ভব। ফোন হারিয়ে গেলে অন্য কোনো ডিভাইস থেকে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজার খুলে সব ক’টি অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করুন। ফোনে ফাইন্ড মাই অ্যাপ চালু রাখুন।

> চুরি হয়েছে বুঝতে পারলে আপনার অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইফোনের ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলা দরকার। না হলে হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা থেকে যায়। মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারের সাহায্যে পার্সোনাল ডেটা ফোন থেকে মুছে ফেলুন। পাসওয়র্ড বদলে নিন।

ফোন, ল্যাপটপের মতো ডিভাইস চুরি গেলে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখতে হবে। কল/ইন্টারনেট সার্ভিসও সাসপেন্ড করতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। ‘মার্ক অ্যাজ লস্ট’ করতে ভুলবেন না।

ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয়

> যে কার্ডটি হারিয়েছে বা চুরি গেছে, তার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করে লক করতে বলুন। অবশ্যই কার্ডের ডিটেল নিজের কাছে লিখে রাখা জরুরি।

> ফোনের কনট্যাক্ট লিস্টে পার্সোনাল ব্যাংকারের নম্বর সেভ করে রাখেন অনেকে। তাকে ফোন করুন, অথবা সরাসরি ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করুন। ব্যাংকের অ্যাপ ফোনে ডাউনলোড করে রাখলে বা নেটব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজেই কার্ড লক করতে পারবেন।

> কার্ডের ব্যাপারে যে কোনো সাহায্যের জন্য টোল ফ্রি নম্বরটি ফোনে সেভ করে রাখুন। এছাড়া, কার্ড প্রোটেকশন প্ল্যানও অ্যাক্টিভেট করে রাখতে পারেন নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে।

> কার্ড প্রোটেক্টেড থাকলে তা অনেক সময়ে ইমার্জেন্সি ক্যাশ অ্যাসিস্ট্যান্সেও কাজে লাগে। বিশেষ করে, বেড়াতে গিয়ে বা চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি দরকারে।

> অনেক সময়ে এটিএম ট্রানজ্যাকশনের সময়ে মেশিন পুরনো হলে বা কোনো ত্রুটি থাকলে কার্ড লক হয়ে মেশিনেই আটকে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় সেই কার্ড জমা পড়ে যায়। সেখানে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্ডটি ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

Facebook Comments