মোদিকে কঙ্গনার চিঠি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ভারতে সাম্প্রদায়িক হামলা বাড়ছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছিলেন বলিউডসংশ্লিষ্ট ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এবার তাদের অভিযোগ নাকচ করে মোদিকে পাল্টা চিঠি দিলেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানৌতসহ ৬১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

কঙ্গনার চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ৬১ জন নাগরিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, পূর্বের চিঠির স্বাক্ষরকারীরা নকশালপন্থিদের ভয়াবহ তান্ডবলীলা বিষয়ে নীরব কেন? তারা রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি নিয়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সাধারণ ঘটনার তকমা দিয়ে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ কঙ্গনাদের।

সম্প্রতি ভারতের ঝাড়খন্ডে শামস তাবরেজ নামের একজনকে মোটরবাইক চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মারা হলে এই আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। পিছিয়ে থাকেনি বলিউডও। ২৩ জুলাই পরিচালক মনি রত্নম, অনুরাগ কাশ্যপ, শ্যাম বেনেগাল, অপর্ণা সেনসহ ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লিখিত চিঠি দিয়ে তাদের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পাল্টা চিঠি দিলেন আরও ৬১ জন নাগরিক।

বলিউডের ৪৯ জনের লেখা চিঠিতে বলা হয়, ভারতে উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষ বেড়েছে। ধর্মীয় ভিন্নতা থেকে উদ্ভূত ঘৃণা ও অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। মুসলমান ও উপজাতিসহ সব সংখ্যালঘুদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এই চিঠিতে। ভারতের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাক্ষরকারীরা।

ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৬ জুলাই) মোদি সরকারকে পাল্টা চিঠিতে অভিযোগগুলো নাকচ করে দেন বলিউড তারকা ও বিশিষ্ট অধ্যাপকসহ ৬১ জন নাগরিক। তাদের বক্তব্য, ৪৯ জনের ওই চিঠির বক্তব্য ‘সার্বিকভাবে সত্য নয়’। বরং ওটা নাকি নিশ্চিতভাবেই রাজনৈতিক ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

৬১ জনের চিঠিতে প্রশ্ন করা হয়েছে, উপজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যখন নকশালপন্থিদের ভয়াবহ হামলায় শিকার হয়, তখন প্রথম চিঠি দাতারা নীরব ছিলেন কেন? কাশ্মিরে যখন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিদ্যালয় পুড়িয়ে দেয় তখন তারা নীরব ছিলেন। ভারতকে যখন ‘টুকরো টুকরো’ করার হুমকি দেয়া হয়, তখন তারা নীরব ছিলেন। যখন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেশদ্রোহী স্স্নোগান দেয়া হয়, তখনও তারা নীরব ছিলেন কেন?

কঙ্গনার সঙ্গে এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন গীতিকার প্রসূন যোশী, নৃত্যশিল্পী সোনাল মানসিং, সিনেমা নির্মাতা মধুর ভান্ডারকর ও বিবেক অগ্নিহোত্রী প্রমুখ। এ ছাড়া শান্তি নিকেতনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিও স্বাক্ষর করেছেন এই চিঠিতে। এদের মধ্যে রয়েছেন, বিশ্ব ভারতীর অধ্যাপক দেবাশীষ ভট্টাচার্য, অবাধ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোজ দীক্ষিত, গবেষক অনির্বাণ গাঙ্গুলি, সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত ও অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জি প্রমুখ।

আস/এসআইসু

Facebook Comments