মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাংক ওয়াগনে তেল পরিবহন!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

মেয়াদ শেষ হওয়া ট্যাংক ওয়াগন দিয়েই চলছে রেলের ফার্নেস অয়েল পরিবহন। এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে অন্তত ২৫ বছর আগে। অথচ এখনো বহাল। ফলে দুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না। এতে বিপুল লোকসান গুণতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে।

গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় রাজশাহীতে লাইনচ্যুত হয় রেলের আটটি ট্যাংকার ওয়াগন। এর আগে ফার্নেস অয়েল নিয়ে খুলনা থেকে রাজশাহীর হরিয়ান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ৩১টি ওয়াগন। পথিমধ্যে চারঘাট উপজেলার দীঘলকান্দি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ২৮ ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেল পরিবহনের কাজে ব্যবহূত ওয়াগনগুলোর বেশিরভাগেরই মেয়াদ শেষ হয়েছে অন্তত ২৫ বছর আগে। এগুলো এখনো ভাড়ায় চালানো হয়। প্রতি টন অয়েল পরিবহনের খরচ নেওয়া হয় মাত্র ৬৯০ টাকা। খরচ কম তাই প্রচুর অয়েল পরিবহন হয় ওয়াগনেই। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ৪৮ বছর ধরে চলছে একইভাবে। এই ওয়াগনগুলো ১৯৬৮ সালে জাপানে তৈরি। তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের রেলবহরে যুক্ত ছিল। সেই সময় থেকে চলছে এখনো। কিন্তু ওয়াগনগুলোর অবস্থা নড়বড়ে। তাই জোড়াতালি দিয়েই মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ওয়াগন চলছে।

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন কয়েক বছর পর এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলাচলের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। যখন যেটুকু প্রয়োজন হয়, সংস্কার করা হয়। আমাদের সম্পদ সীমিত। এগুলো তো দেশে তৈরি হয় না। বিদেশ থেকে বিপুল টাকা খরচ করে আমদানি করতে হয়। তাই এভাবেই চালানো হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী অসীম কুমার তালুকদার বলছেন, ওয়াগন চালানোর আগে ফিটনেস যাচাই করা বাধ্যতামূলক। তদন্তে এক্ষেত্রে কারো গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২০ জুন ও চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে ফার্নেস অয়েলবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট সৈয়দপুরেও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তিনটি ওয়াগন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments