মিন্নির দুই আবেদন নামঞ্জুর

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে তলব ও হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার আবেদন ফেরত দিয়েছেন আদালত। মিন্নির পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম সোমবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে উক্ত আবেদন করেছিলেন। অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই রাত ৯টার দিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরের দিন তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ৫ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগে ৪৮ ঘণ্টার মাথায় বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করিয়ে গত ১৯ জুলাই মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। ওইদিনই রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর জানিয়েছেন, গত ২০ জুলাই তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা বরগুনা কারাগারে মিন্নির সাথে দেখা করেছেন। মিন্নির বাবা দাবি করেছেন, মিন্নি তাদেরকে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়ার কথা বলেছেন। সেই সাথে মিন্নি তার বাবা-মাকে উন্নত চিকিৎসার অনুরোধ করেছেন। রোববার রাতে বরগুনা জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি নাজমা বেগমের নেতৃত্বে নারী নেত্রীরা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলামের সাথে দেখা করে মিন্নির পক্ষে আইনি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

মিন্নির পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম জানিয়েছেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য মিন্নি স্বাক্ষর দরকার। যে কারণে তিনি মিন্নিকে আদালতে তলব ও হাসপাতালে নিয়ে উন্নতমানের চিকিৎসা করানোর অনুমতি চেয়ে বিচারকের কাছে আবেদন করেছিলেন। আইনজীবী মাহাবুবুল বারী আসলাম জানিয়েছেন, বিচারক তার আবেদন ফেরৎ দিয়ে আইনের মধ্য দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে বলেছেন। আইনজীবী এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, আগামীকাল তারা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে মিন্নির মাধ্যমে আবেদন করবেন।

প্রসঙ্গত বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকালে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১৪ জনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments