মামলা করায় ভার্চুয়াল কোর্টে ১৫ আইনজীবীকে শোকজ

ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনা করায় ১৫ আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত করেছে গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে তাদের সদস্যপদ কেন বাতিল করা হবে না এই মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

এদিকে ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনায় অংশগ্রহণকারী আইনজীবীদের সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ.ম রেজাউল করিম।

শুক্রবার তিনি ইত্তেফাককে বলেন, গাইবান্ধা জেলা বার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে বেআইনি। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের আইনানুগ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করার কোন এখতিয়ার নাই কোন আইনজীবী সমিতির। আইন অঙ্গনের বিচার প্রক্রিয়া কি পদ্ধতিতে হবে তা নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। সেই আলোকেই সুপ্রিম কোর্টসহ সকল কোর্টের কার্যক্রম চলছে। ওই কার্যক্রমে যে কোন আইনজীবীর অংশগ্রহণ করাই বৈধ। ফলে কাউকেই কোন আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার বা স্থগিত করার কোন আইনগত সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, সংক্ষুব্ধ আইনজীবীরা যদি নিয়ম অনুসারে আপিল করেন তাহলে বার কাউন্সিল যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী জনগণ যাতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কাজ পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পর গত ১১ মে থেকে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিচার কাজ চলছে।

সেই মোতাবেক গাইবান্ধা জেলা বার সমিতির সদস্য ১৫ আইনজীবী মামলা পরিচালনায় অংশ নেওয়ায় তাদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদস্যপদ স্থগিত হওয়া আইনজীবী এসএম মাজহারুল ইসলাম সোহেল ইত্তেফাককে বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমি মার্চ মাস থেকে বাসায় আছি। এর মধ্যে ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা করায় আমিসহ ১৫ জনের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। সদস্যপদ স্থগিতের আগে কাউকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। সেটাও আমাদের ক্ষেত্রে করা হয়নি।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স ইত্তেফাককে বলেন, ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনার জন্য নয়, পেশাগত অসদাচরণের কারণেই ১৫ জনের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। এদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক হলে সদস্যপদ ফিরে পাবেন।

কারণ দর্শানোর নোটিশে যা বলা হয়েছে

গাইবান্ধা জেলা বারের গত ১২ মে তারিখের অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত এবং তদপ্রেক্ষিতে ১৭ মে তারিখের জরুরি সাধারণ সভায় গৃহিত সিদ্ধান্তসমূহ অমান্য, জেলা বারের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, জেলা বার সম্পর্কে কটূক্তি, অবজ্ঞা প্রদর্শন ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদানের জন্য বারের সদস্যপদ হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না মর্মে নোটিশ দেওয়া হলো। গত ২ জুন ১৫ জন আইনজীবীকে পৃথক পৃথকভাবে এ নোটিশ দেওয়া হয়।

এই নোটিশের বিরুদ্ধে আটজন আইনজীবী বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বরাবর আপিল করেছেন। ওই আপিলে বলা হয়েছে, আইনজীবী হিসেবে আমাদের মৌলিক অধিকার হচ্ছে আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা, সেটা শারীরিক বা ভার্চুয়াল যে পদ্ধতিতেই হোক। ভার্চুয়াল পদ্ধতি সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি। এর সঙ্গে একটি বারের সকল সদস্য সমান সুযোগ পাওয়ার পরেও কখনোই নির্দিষ্ট সময়ে একইসাথে সেই পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে না। তদুপরি নিজেদের অপরাগতা, অক্ষমতা, অসমর্থতা এবং সর্বোপরি দুর্বলতা আড়াল করতে জেলা বার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি গত ১২ মে সরকারি নির্দেশনার পরিপন্থী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আমরা সমিতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য বার কাউন্সিলের নিকট আবেদন করছি।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

Facebook Comments Box