মানব পাচারকারি পাপুলের ভাই বদরুলকে খুঁজছে সিআইডি

৭১কন্ঠ অনলাইন:
কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের ছোটভাই কাজী বদরুলকে খুঁজছে সিআইডি। বদরুলের মালিকানাধীন ট্রাভেল এজেন্সি ‘জব ব্যাংক’-এর মাধ্যমে এই সংসদ সদস্য কুয়েতে মানব পাচার করে আসছিলেন। গত ৭ই জুলাই লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ৪ ভুক্তভোগীর করা মামলার তদন্ত করেছে সিআইডি। ওই তদন্তে বদরুলসহ অনেকের নাম উঠে এসেছে। সিআইডি সূত্র জানিয়েছে তাদের খোঁজা হচ্ছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এদিকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ‘জব ব্যাংকের’ ম্যানেজার গোলাম মোস্তফার জবানবন্দিতে উঠে আসে পাপুলের ছোট ভাইয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টি। গত ২৪শে আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ-উর-রহমানের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, মগবাজারস্থ ‘জব ব্যাংক’ ট্রাভেল এজেন্সিতে ২০১২ সাল থেকে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক এমপি পাপুলের ছোট ভাই কাজী বদরুল আলম ও লিটন চৌধুরী। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, এমপি তার ছোট ভাইকে দিয়ে এই এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তবে আমি আমার বস লিটন চৌধুরীর নির্দেশ মতেই দেশের বিভিন্নস্থান থেকে দালালের মাধ্যমে লোক সংগ্রহ করতাম। এবং ‘জব ব্যাংক’ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫/৭ লাখ টাকা নিয়ে কুয়েতে পাঠাতাম। এতে আরো সহযোগিতা করতো মনির নামে একজন। জব ব্যাংকের ম্যানেজার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আরো বলেন, আমাদের এই কাজের দেখভাল করার জন্য আইয়ুব নামে এক ব্যক্তি আসতেন। তিনি কখনো বিদেশগামী কারো সঙ্গে দেখা করতেন না। আমি নিজে বিদেশগামী যাত্রীদের টিকিট ও অন্যান্য কাগজপত্রগুলো করার জন্য ফকিরাপুলস্থ জিন্নাত টাওয়ারে বেস্ট ট্রাভেলের মাসুদের মাধ্যমে সম্পাদনা করতাম। তাদের প্রতিষ্ঠান বা একাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে লিটন চৌধুরী ও পাপুলের ব্যাংক একাউন্টে পাঠাতাম। এই মামলার ভিকটিম রুবেল হককে কুয়েতে নেয়ার কথা বলে নগদ পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করি এবং মনিরের সহযোগিতায় কুয়েতে পাঠাই। এমপি পাপুলের প্রতিষ্ঠান মারাফি কুয়েতির পক্ষে মাসুদ ও মনিরের সহযোগিতায় যেসকল লোককে কুয়েতে নেয়া হয়েছিল তাদেরকে শর্তানুযায়ী চাকরি প্রদান না করা হলে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করে ওই দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। পরে লিটন চৌধুরী আত্মগোপনে চলে যান এবং আমরা মগবাজারস্থ জব ব্যাংক বন্ধ করে দেই। জবানবন্দিতে তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন, এসব বিষয়ে আমি জানতাম না।

অভিযোগ রয়েছে, দেশে পাপুলের ভাই কাজী মোহাম্মদ বদরুল আলমের নামে রয়েছে রিক্রুটিং এজেন্সি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল (আর এল ১১৮৩)। এই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমেই কুয়েতে কর্মী নেয় পাপুলের কোম্পানি।
সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, পাপুল ইস্যুতে সিআইডি’র একটি ইউনিট বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করছে। তাছাড়া সংস্থাটি পাপুলের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়টি অনুসন্ধান করছে।

সিআইডি’র অর্গানাইজ্‌ড ক্রাইমের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, পাপুল ও পাপুলের সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলাটির তদন্তভার আমরা পাওয়ার পর বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আমরা কয়েকজন আসামি ধরেছি। এক জনের জবানবন্দি পেয়েছি। এ ছাড়া তদন্তে অনেকের নাম আসছে, আমাদের তদন্তে যাদের নামই আসবে তাদেরকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

এর আগে মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৬ই জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে। তিনি বর্তমানে কুয়েতের কারাগারে আছেন।

Facebook Comments Box