মানবকল্যাণে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ পূরণ হওয়ার নয়

40

কোভিড-১৯ নিয়ে রাতদিন যেভাবে পরে আছি, এখন আফসোস হচ্ছে কেন বৈজ্ঞানিক হতে পারলাম না। তখন জার্নাল পড়ে নয় সরাসরি গবেষণাগারে থেকে মানব কল্যাণে অবদান রাখার সুযোগ থাকতো হয়তোবা। সব মানুষের সুখ আসলে একই রকম নয়।

বিশ্বজুড়ে এই যে লাখ লাখ চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে দিন-রাত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন, প্রতিরোধ আর প্রতিষেধক ওষুধ বের করার জন্য, কেবল অর্থ দিয়ে কিংবা পুরষ্কার দিয়ে কখনই এই ঋণ পরিশোধ করা যায় না। মানবতার কল্যাণে তাদের যে আত্মত্যাগ তা যেন কোনও ভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। এই মুহূর্তে তাদেরও একটাই প্রচেষ্টা মনুষ্যকূলকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

অনেক বিজ্ঞানীদের জীবনী পড়ে জেনেছি তারা নাকি একটু পাগলাটে টাইপ, ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে নিরীহ গোবেচেরা টাইপ হয়। কারণ প্রকৃত জিনিয়াসরা অন্য কিছু বুঝেন না কিংবা তোয়াক্কা করেন না, আবিষ্কারের নেশায় অহর্নিশ বুদ হয়ে থাকেন। তাদের আনন্দ আর প্রাপ্তি কেবল আবিষ্কারে, মানুষের সেবায়, মনবতার কল্যাণে, বৈশ্বিক জগতের হিসেব নিকেশ অন্য সব প্রাপ্তি সেখানে অতীব তুচ্ছ।

ফ্রান্সে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডক্টর ডিডিয়ার রাউট তিনটি কম্বিনেশন ড্রাগ Hydroxychloroquine, Zinc Sulfate and Azithromycin এর সমন্বয়ে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা করছিলেন। ফ্রান্সেরই অন্য আরেকদল বিজ্ঞানী তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করছেন।

এতদিন বলা হয়েছে এই ভাইরাস সরাসরি ফুসফুসকে আক্রমণ করে, কিন্তু বর্তমানে নতুন আরেক দল চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাস মূলত রক্তের হিমোগ্লোবিন ডেফিসিয়েন্সি ঘটিয়ে অক্সিজেন প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে যা পরবর্তী সময়ে ফুসফুসে অক্সিজেন স্বল্পতা ঘটায় ফলাফল মৃত্যু। তাদের অভিমত এই অবস্থায় ভেন্টিলেটর ফুসফুসের আরও বেশী ক্ষতি সাধন করতে পারে। এই জন্য অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আইসিইউতে নেওয়ার সাথে সাথে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

এই ঘটনা সত্য হলে আমাদের দেশের স্বল্প সংখ্যক ভেন্টিলেটর নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই কিন্তু অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে হবে নিশ্চিত।

Facebook Comments