মহেন্দ্র সিং ধোনি সম্পর্কে যে ৫টি তথ্য আপনি জানেন না!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় মহেন্দ্র সিং ধোনি অধ্যায় এখন প্রায় সমাপ্তির পথে। বিশ্বজুড়ে এই বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ভারতীয় অধিনায়কের রয়েছে অগণিত ভক্ত। তবে আজ ধোনি সম্পর্কে থাকছে এমন কিছু তথ্য, যেগুলো সম্পর্কে হয়তো তার পরম ভক্তরাও অবগত নন!

১। ১৪ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে একবারও দল থেকে বাদ পড়েননি মহেন্দ্র সিং ধোনি। মাঝেমধ্যে তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন কোনো সিরিজ থেকে, তবে তাকে একবারও ভারতীয় দলের স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার জন্য বিবেচনা করা হয়নি। ধোনি বাদে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে একমাত্র শচীন টেন্ডুলকারই এমন নিষ্কণ্টক ক্যারিয়ার পার করেছেন। এমনকি সৌরভ গাঙ্গুলী, রাহুল দ্রাবিড়, বিরাট কোহলিকেও ক্যারিয়ারে এক বারের জন্য হলেও বাদ পড়তে হয়েছে ভারতীয় স্কোয়াড থেকে।

এমনকি শচীন টেন্ডুলকারের মতো ব্যাটসম্যান, যার ভারতের হয়ে খেলা প্রতিটি সিরিজেই অন্তত একটি ফিফটি ছিল; তাকেও একবার নির্বাচকরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি কবে অবসর নেয়ার কথা ভাবছেন! ঐ ঘটনার পরেই শচীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ধোনির সঙ্গে আজ পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনাও ঘটেনি।

২। বিশ্ব ক্রিকেটে কমপক্ষে ১৫০ ওয়ানডে বা তার বেশি ম্যাচে কোনো দলকে নেতৃত্ব দেয়া অধিনায়কদের মধ্যে ধোনির জয়ের হার তৃতীয় সর্বোচ্চ, ৫৫ শতাংশ। তার থেকে এগিয়ে আছেন কেবল রিকি পন্টিং (৭১ দশমিক ১৩ শতাংশ) ও অ্যালান বোর্ডার (৬০ দশমিক ১১ শতাংশ)। ধোনির নেতৃত্বে ২০০ ওয়ানডে খেলে ১১০টিতেই জয় পেয়েছে ভারত।

৩। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ হাজার রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ধোনির ব্যাটিং গড় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৫০ দশমিক ৫৭)। তার থেকে এগিয়ে আছেন কেবল বিরাট কোহলি (ব্যাটিং গড় ৫৯.৪০) । স্বয়ং ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাটিং গড় যেখানে ৪৪ দশমিক ৮৩!

৪। ২০১৭ সালের জানুয়ারির পর থেকে দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় যাবৎ ধোনির কোনো সেঞ্চুরি নেই। এ সময়কালের মধ্যে খুব কম ইনিংসেই ১০০’র বেশি স্ট্রাইকরেট রাখতে পেরেছেন ধোনি। ২০১৮ সালে ১৩ ওয়ানডেতে একটি হাফ-সেঞ্চুরিও ছিল না ধোনির। এ কারণেই তাকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যত সমালোচনার সূত্রপাত!

৫। ‘ক্যাপ্টেন কুল’ হিসেবে পরিচিত হলেও ক্যারিয়ারের শুরু দিকে চাপের মুখে ধোনি ‘কুল’ থাকতে পেরেছেন খুব কম সময়ই! ২০০৭ বিশ্বকাপের ৩ ম্যাচে ধোনি করেছিলেন মাত্র ২৯ রান, যার সবগুলো রানই এসেছিল বারমুডার বিপক্ষে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিরেছিলেন শূন্য রানে। ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে ২০০৫ সালে ইন্ডিয়ান অয়েল কাপ ও ভিডিওকন কাপের ফাইনালেও ধোনির পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই।

সাম্প্রতিক সময়েও ধোনির পরিকল্পনা যে বেশ কার্যকর, তা কিন্তু নয়। স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিং না করে ভালো বোলারদের সমীহ করে খেলতে যেয়ে অনেক বড় ম্যাচই হাতছাড়া করেছেন তিনি। তার মধ্যে এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও রাউন্ড রবিন লীগের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ, ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ২০১০ সালের শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ও ২০০৮ সালের এশিয়া কাপ ফাইনাল অন্যতম। এসব ম্যাচেই অতিরিক্ত ধীর গতির ব্যাটিং করে বিপরীত প্রান্তের ব্যাটসম্যানের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন তিনি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments