মসজিদে নববীতে জীবনের প্রথম স্মৃতিময় ইফতার

শাহাদাত হুসাইন
পূন্যময় নগরী পবিত্র মদিনা,লাখো মানুষের ইয়া নবী সালাম আলাইকা রব্বে মুখরিত থাকে সোনার মদীনা। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় এসে গড়ে তুলেন এই মসজিদে নববী মাত্র ১১ হাজার ৬ শত বর্গফুটের একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। কালের পরিক্রমায় সেই মসজিদ এখন ১৭ লাখ স্কয়ার ফুটের এক বিশাল কমপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে। এই মসজিদে সাধারণ সময়ে একসঙ্গে ৬ লাখ লোক নামাজ আদায় করতে সক্ষম, হজ এবং ঈদের সময় যা আরো বহুগুণ ছাড়িয়ে যায়।

এখানেই প্রতি রমজানে আয়োজিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইফতার মাহফিল। রমজানের মাসব্যাপী এ আয়োজনে প্রতিদিন অংশ নেন ৩ থেকে ৫ লাখ নারী-পুরুষ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন এই ইফতার মাহফিলে।(সূত্র:ইন্টারনেট)
পবিত্র রমজানে মসজিদে নববীতে দেখা যায় এক অপরূপ দৃশ্য। উপস্থিত মানুষের মাঝে পরিলক্ষিত হয় ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য এবং ভালো কাজ করার প্রতি মানুষের প্রবল আগ্রহ।

এ সময় সব মুসলিম এক কাতারে শামিল হয়ে যান। আল্লাহপ্রেমী মদিনার মুসলমানরা তাদের অতিথিদের জন্য উদারভাবে মেহমানদারী করেন। মসজিদের ভেতর-বাইরে দু-ধরনের ইফতারীর আয়োজন হয়। মসজিদের ভেতরের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে ইফতারের দস্তরখান সাজে ভিন্ন মেনুতে। এখানে থাকে খেজুর, পানি, রুটি, কফি, চা, দই এবং বাদাম আর যমযমের পানি।

আর মসজিদের বাইরের ইফতারগুলোয় অন্যসব আয়োজনের সঙ্গে থাকে জুস, বিরিয়ানী, গরু কিংবা মুরগীর গোশত। প্রচুর মানুষ এই ইফতারে শরিক হলেও খাদ্য বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি সকলের রয়েছে প্রবল সর্তকতা। মসজিদে নববীর লাখো মানুষের সাথে আমার জীবনের প্রথম ইফতার করার সুযোগ হয় ২০১১ সালে।মসজিদে নববীর পাশে অবস্থিত বাংলাদেশী মার্কেট থেকে চার জনে মিলে ইফতার ক্রয় করলাম বুট,মুড়ি,পেয়াজু,আলুর চপ,বেগুনি জিলাপী ইত্যাদি। প্রায় ২০/২৫ জন রোজাদার ইফতার করতে পারবে এমন পরিমানের ইফতার নিয়ে চলে আসলাম মসজিদে নববীর আঙিনায়।মনে এক অন্যরকম শিহরন প্রিয় রাসূলের মসজিদে তারই রওজা শরীফের পাশে বসে জীবনের প্রথম ইফতার করবো সে কথা ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তেই আনন্দের অশ্রুগুলো গড়িয়ে পড়লো।

প্রবাসের ব্যাস্ততায় নিজে ইফতার বানানোর সুযোগ হয় না।বুট,মুড়ি,পিয়াজু,বেগুনী ছাড়া যেন বাঙালীর ইফতার পূর্ণতা পায় না। তাই আজ শখ করেই বাংলা আইটেমের ইফতার নিয়ে আসলাম। আমাদের আশপাশে প্রচুর পরিমানে ইফতার আছে এগুলো আমাদের প্রতিদিনই খাবারের ম্যানুতে থাকে। আমরা পলিথিনের একটি লম্বা দস্তরখান বিছিয়ে ইফতারগুলো সাজালাম,সাথে কিছু ফলও আছে। আমাদের এই ব্যাতিক্রমী আয়োজন দেখে অনেক সৌদি নাগরীকও তাদের খাবার রেখে আমাদের ইফতারে শরীক হয়েছিলেন। অনেক তৃপ্তি নিয়ে সেদিন বাসায় ফিরছিলাম। নিজেও মদীনার একটি মসজিদে নামাজ পড়াতাম সেখানেও প্রায় দেড় শতাধিক রোজাদারের ইফতারের আয়োজন হত প্রতিদিন। সেগুলো দেখাশুনা করতে হতো। তারপরও মাঝে মাঝে ছুটি নিয়ে চলে যেতাম মসজিদে নববীর বরকতময় ইফতারের দস্তরখানে। বাংলাদেশী জুসের বোতল কখনো রুহ আফজার শরবত বানিয়ে নিজেই পরিবেশন করেছি প্রিয় রাসূলের শহরে আগত রোজাদার হাজী সাহেবদেরকে, পুরনো সেই স্মৃতিগুলো মনে করে এখনো চোখের অশ্রু ঝরে অবিরাম।

শাহাদাত হুসাইন

ইমাম,মসজিদে আররাহ্ মাহ্ , আইনদার জাদীদ (আবক্কীক) দাম্মাম, সৌদিআরব।

ইনচার্জ:দৈনিক আলোকিত সকাল

Facebook Comments