মঞ্জুর দলে যাচ্ছেন হেভিওয়েটরা!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

জোট রাজনীতির ভালো সময় যাচ্ছে না বাংলাদেশে। অনেকে রাগে-ক্ষোভে শীর্ষ দলের সঙ্গও ত্যাগ করছেন। রাজনীতির এ দুঃসময়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ স্লোগানে এবং স্বাধীনসত্তা বিকাশে অধিকার ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি— এ মূল ধারাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে কাজ করছেন জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু।

গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে দল গঠনের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। ওই প্রোগ্রামেই উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকশ লোক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ এ সময়ে দেশের অনেকগুলো প্রভাবশালী দলের প্রধানদের সঙ্গে মঞ্জুর বৈঠক হয়েছে। আর হেভিওয়েটদের অনেকেই জনআকাঙ্ক্ষার দলে যোগ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাই তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও শীর্ষ ব্যক্তিদের জন্য আরও কিছু সময় পিছিয়ে কমিটি গঠন করতে চাচ্ছেন মঞ্জু।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগস্টের শেষে অথবা সেপ্টম্বরের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ। এ জন্য প্রতিদিনই মঞ্জুর সঙ্গে চলে হেভিওয়েট ব্যক্তিদের সিরিজ বৈঠক। তাই দল গঠন নিয়ে বেশি সাড়া পাওয়ায় আরও একটু সময় নেয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে থাকা প্রভাবশালী অনেক দলীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করেছে জামায়াতের অঙ্গনে কূটনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় পাওয়া মজিবুর রহমান মঞ্জু। জোট ছেড়ে এবং অনেকে বিদ্রোহী হয়ে নতুন এ দলে যোগ দেয়ার ইঙ্গিত দেয়ায় সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। যদিও এর আগে তিন মাসের মধ্যে কমিটি গঠন করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

কমিটি গঠনে একটু সময় লাগলেও চমক থাকবে বলে দাবি মঞ্জু অনুসারীদের। তাদের দাবি, ইতোমধ্যে রমজানে ইফতারকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় কমিটিগুলো প্রায় আংশিক সেটআপ দেয়া হয়ে গেছে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গরূপে ঘোষণা দেয়া হবে।

তবে কাদেরকে পদ দেয়া হচ্ছে সে বিষয়গুলো গোপন রাখা হচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটে বড় আকারে ইফতার পার্টি দিয়ে দল গঠনের জন্য জনশক্তি তৈরিতে অনেককে বার্তা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বুদ্ধিজীবী, সুশীল, শিক্ষাবিদদের নিয়ে সিরিজ বৈঠকে নেতৃত্বের কৌশল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে। অনেকে প্রকাশ্যে এবং অনেকে পেছনে থেকে জনআকাঙ্ক্ষার দলকে এগিয়ে নিয়ে এবং শক্তিশালী রূপ দিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

সেক্টরভিত্তিক দলীয় রূপ দিতে মঞ্জুর বুদ্ধিজীবীরা পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা, শিক্ষা, আইন, মিডিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েও অনেকের সঙ্গে বৈঠক করে বেশ কয়েকজনের হাতে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। ব্যক্তিকে নয়, যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে সবাই সম্মত হয়েছেন। সেই আলোকেই রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করছে দলটি।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু বলেছিলেন, অনেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সরকারের যোগসাজশ থাকার সন্দেহ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। কারো মদদ বা উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে আমরা আসিনি। অনেক বাধা-বিপত্তি এসেছিল আমাদের ওপর।

সামনেও আসবে, তারপরও আমরা এগিয়ে যাবো। দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, আমাদের কার্যক্রম ওপেন শুরু করলাম, সামনে বাধা এলে কৌশলে থাকব, কিংবা অধিকার নিয়ে রাজপথে। আমাদের এই দলের যদি তাৎপর্য থাকে, তাহলে অবশ্যই তরুণ প্রজন্ম আমাদের সঙ্গে থাকবে।

তিনি এ-ও বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী একমাত্র দল না হলেও পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আর দলীয় ভূমিকা নিয়েই বেশি প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

দল হিসেবে জামায়াত মুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দলীয় ভূমিকার জন্য দায়দায়িত্ব স্বীকার এবং ঐতিহাসিক ক্ষত উপশমে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবিকে বরাবরই অগ্রাহ্য করেছে। এই রাজনৈতিক অবস্থানের বোঝা ৭১ পরবর্তী প্রজন্মের বহন করা উচিত নয় বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তবে মঞ্জুর রাজনৈতিক দল গঠনে ক্ষুব্ধ জামায়াতে ইসলামীর ফুল টাইমাররা। যারা দীর্ঘ সময় দল থেকে ফুল টাইমের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ গ্রহণ করেন তারা কেন্দ্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নিয়েও মঞ্জুর অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। কেন্দ্র থেকে চিঠি দিয়েও নিজেদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির পর ও জামায়াতের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই অসন্তুষ্ট। তাই অনেকে ভেতরে ভেতরে ঐক্যবদ্ধ থেকে মঞ্জুর উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে থাকেন তারাই সবাই মঞ্জুতে খুশি। জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন দেশের বাইরে থেকেও মঞ্জুকে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মঞ্জুকে নিয়ে জামায়াতের ফুল টাইমারদের প্রচারণায় দলের অনেকে ক্ষুব্ধ। বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে মঞ্জুর ভূমিকাকে অনেকে মুনাফিক, কাফেরের সঙ্গে তুলনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ অব্যাহত রেখেছেন। এতে করে মঞ্জুর দল আলোচনায় থেকে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলেও মনে করছেন দলটির সচেতন নেতারা।

এ নিয়ে দলটির এক শীর্ষ নেতা সমপ্রতি জামায়াতের আমিরসহ শীর্ষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহাম্মদ আপনাকেই বলছি, বিবেধ, বিরোধ, আর হিংসাত্মক রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক চর্চা শুরু হচ্ছে রাজনীতিতে!

জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নামক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান কর্মীদের আচরণ কোনোভাবেই জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না!

জামায়াতে ইসলামী জনগণের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে, কিছু সময় আগেও যারা জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল, তাদের সাথে কোনো প্রকার বৈরী আচরণ কাম্য নয়!

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামায়াতের বড় একটি অংশ মঞ্জুর ওপর ক্ষুব্ধ থাকলেও দলটির ব্যবসায়ীরা জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশকে স্বাগত জানাচ্ছে। দীর্ঘ সময় জামায়াতের ভুল নেতৃত্বর বিকল্প হিসেবে অনেকে এমন একটি প্ল্যাটফর্মের অপেক্ষা করছেন।

তরুণ প্রজন্মের বেশির ভাগ জামায়াতের বোঝা নিয়ে নেতৃত্ব দিতেও অনাগ্রহী। তাই মঞ্জুকেই গোপনে সবাই সাপোর্ট দিচ্ছেন। তবে মঞ্জুর অনুসারীদের দাবি, জামায়াতে যাদের গায়ে কাদা আছে তারা মঞ্জুর দলে আসতে চাইলেও তিনি নেবেন না।

তবে যারা মেধাবী, স্বচ্ছ এমন ব্যক্তিরা আসতে চাইলে তাদের জন্য দরজা খোলা থাকবে। বুদ্ধিজীবী, সুশীল, শিক্ষাবিদ এবং তরুণ প্রজন্মদের নিয়েই আপাতত চলতে চাচ্ছে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ।

নতুন রাজনৈতিক দলের উদ্যোগ ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে জানতে চাইলে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশের সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মঞ্জু আমার সংবাদকে বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম ও দেশের সব শ্রেণি থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। একটা সুন্দর চিন্তা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।

কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তিন মাসের বিষয়টি বলছি না, তিন মাসের মধ্যে কমিটি গঠন করতে অনেকের পরামর্শ ছিল। তবে খুব দ্রুতই কমিটি গঠন করব। অনেক অগ্রগতি হয়েছে, আশা করি এ বিষয়ে গণমাধ্যম যথাসময়ে জানতে পারবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box